1 Answers
উদ্দীপকের মুন্সিগঞ্জ জেলার কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী আলু চাষে আধুনিক কলাকৌশল গ্রহণ করে। আলু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় আলুর রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আধুনিক কলাকৌশল অবলম্বন করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
আগাম আলু চাষ অর্থাৎ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলু রোপণ অথবা আগাম জাত চাষের মাধ্যমে এ রোগের মাত্রা অনেকটা কমানো সম্ভব। রোগ সহনশীল জাত যেমন- বারি আলু-১৩, বারি আলু-৪৬, বারি আলু-৫৩, বারি আলু-৭৭ ইত্যাদি চাষ চাষ করা যেতে পারে। এছাড়া রোগমুক্ত প্রত্যায়িত বীজ ব্যবহার করা যেতে পারে। আলুর সারি হতে সারির দূরত্ব ৬০ সেন্টিমিটার এবং প্রতি সারিতে আলু হতে আলুর দূরত্ব আস্ত বীজ আলুর ক্ষেত্রে ২৫ সেন্টিমিটার আর কাটা আলুর ক্ষেত্রে ১৫ সেন্টিমিটার অনুসরণ করতে হয়। আলুর সারিতে ভালোভাবে মাটি উঁচু করে দিতে হয়। সেচের পর আলু গাছের গোড়ার মাটি সরে গেলে তা পুনরায় ঢেকে দিতে হয়। যে সকল অঞ্চলে লেইট ব্লাইট রোগ প্রায়ই হয় সে সকল স্থানে আলুর গাছ ৮- ১০ সেমি হলেই তাতে বোর্দোমিক্সার বা ডায়াথেন এম-৪৫ ছিটাতে হয়। এর পরে ২০-২৫ দিন অন্তর ছত্রাকনাশক নিয়মিতভাবে ছিটালে রোগাক্রমণের আশঙ্কা থাকে না। নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধের জন্য ৭-১০ দিন অন্তর ম্যানকোজেব গ্রুপের অনুমোদিত অন্যান্য ছত্রাকনাশক যেমন- ইন্ডোফিল এম-৪৫ বা পেনকোজেব ৮০ ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে দিয়ে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
অতএব, সফলভাবে আলুর ফলন পেতে কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া পরামর্শ যথার্থ।