1 Answers

উদ্দীপকের মি. রহমত রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও সেচের মাধ্যমে এবং সুমন অ্যাজোলা সার ব্যবহার করে ধান বীজ উৎপাদন করেন।

উদ্দীপকে মিঃ রহমত তার জমিতে গতানুগতিক পদ্ধতিতে ইউরিয়া সার, সেচ ও কীটনাশক ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করেন। আর সুমন ধানের সাথে অ্যাজোলা চাষ করেন যা তুলনামূলক আধুনিক পদ্ধতি। মিঃ রহমত তার জমিতে প্রচুর পরিমাণে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করায় পাশের জমির তুলনায় ভালো ফলন পেয়েছেন। এতে তিনি সাময়িকভাবে উপকৃত হলেও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ইউরিয়ায় থাকা নাইট্রোজেন ফসলের জন্যে অতি জরুরি একটি পুষ্টি উপাদন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ইউরিয়া সার ব্যবহারের ফলে তা মাটির নিচের স্তরে জমা হয়, যা বৃষ্টির ও সেচের পানির সাথে চুয়ানোর মাধ্যমে জমির পাশে থাকা খাল-বিল, পুকুর এবং মাটির নিচে থাকা পানির স্তরে মিশে যায়। ফলে পানি ও মাটি দূষিত হয়। তাছাড়া অনেক দিন ব্যবহারের ফলে মাটির বুনটেও পরিবর্তন আসে এবং মাটি ধীরে ধীরে তার উর্বরতা হারায়। মি: রহমত তার জমিতে প্রচুর পরিমাণে সেচও প্রদান করেন। এতে তার জমিতে সবসময় পানি জমে থাকে। ধানের জমিতে এই জমে থাকা পানি মিথেন গ্যাস উৎপাদনে সহায়তা করে। এই মিথেন গ্যাস পরিবেশের দূষণ ঘটায়। তিনি অনেক বেশি কীটনাশক ব্যবহার করেন। এই কীটনাশকও পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি অন্যান্য অনেক প্রাণীর জীবনকে শঙ্কায় ফেলে দেয়।

সুমন তার জমিতে অ্যাজোলা চাষের পাশাপাশি ফসলের সব ধরনের যত্ন ও পরিচর্যা করেন। অ্যাজোলা চাষের কারণে তাকে জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার দিতে হয় না। পাশাপাশি মাটির বুনটও উন্নত হচ্ছে। তার জমির ফসলের ফলনও বেশ ভালো হচ্ছে। তাকে আর্থিক কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে না।

মিঃ রহমতের অনুসরণকৃত পদ্ধতিতে ধানের ফলন বাড়লেও তিনি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে সুমন পরিবেশবান্ধব উপায়ে নিজের আর্থিক কোনো ক্ষতি ছাড়াই মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছেন। তাই আমি মনে করি সুমনের পদ্ধতিই বেশি গ্রহণযোগ্য।

5 views

Related Questions