1 Answers
উদ্দীপকে জুয়েল ও কাদেরের দেখা প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। কৃষি তথ্য, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রদানের জন্য যে সকল প্রতিষ্ঠান কাজ করে চলেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অন্যতম।
এ প্রতিষ্ঠানটি ধানের মৌসুমভিত্তিক, কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ও প্রতিকূল পরিবেশ উপযোগী নতুন নতুন উফশী জাত উদ্ভাবন করছে। মৌসুমভিত্তিক ধানের মধ্যে আউশ মৌসুমের জন্য ব্রি ধান ৬৫, আমন মৌসুমের জন্য ব্রি ধান ৬৬ এবং বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান ৬৭ ইত্যাদি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশে চাষ উপযোগী হিসেবে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি ধান ৪৭, খরা সহনশীল ব্রি ধান ৪২, বন্যা সহনশীল ব্রি ধান ৫২ ইত্যাদি জাত উদ্ভাবন করেছে। ধানের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ শনাক্ত করে তা দমনের জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। যেমন: বীজ বাহিত রোগ দমনে বীজ শোধন এবং পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার। এ প্রতিষ্ঠান মাটির ধরন বিবেচনা করে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেয়। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৫- ১০ টন। এতে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছে এবং কৃষির উৎপাদন বাড়ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট IRRI (International Rice Research Institute)-এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে কৃষি বিষয়ক তথ্য, ফসলের জাত, উন্নত কলাকৌশল ও কৃষি প্রযুক্তি আদান-প্রদান করে। কৃষকদের মাঝে ধানের উন্নত চাষাবাদ সম্পর্কিত লিফলেট, পুস্তিকা, জার্নাল, বই প্রকাশ ও বিতরণ করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে যৌথভাবে প্রদর্শনী প্লট তৈরি করে কৃষকের মাঝে উন্নত জাত ও চাষাবাদের প্রযুক্তি বিস্তারে সহায়তা করে। এছাড়াও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন করে।
সুতরাং বলা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ধান উৎপাদনের জন্য দেশের পরিবেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে থাকে। অর্থাৎ, কৃষির আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণই এ প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।