1 Answers
উদ্দীপকে বেসরকারি সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ বেসরকারি সংস্থাগুলো অলাভজনক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। আর্থ- সামাজিক উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী আজও অশিক্ষিত ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। বেসরকারি সংস্থাসমূহ দেশে শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরক্ষরতা মুক্ত দেশ গড়তে ভূমিকা পালন করছে। এনজিওগুলো গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলোকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান এবং ক্ষেত্র বিশেষে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে গরিব মানুষকে মূলধন সরবরাহ করছে। ফলে দেশে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনজিওগুলো কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এনজিওসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঋণ দান, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, স্বল্প বা বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করে কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। এনজিওসমূহ অজ্ঞ, অশিক্ষিত, দরিদ্র নারী সমাজকে ঋণদান এবং নানামুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছে। এনজিওসমূহ বাংলাদেশে বেকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিজেদের অফিসে শিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এক্ষেত্রে সরকার একা সংকট মোকাবিলা করতে পারে না। এ অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি কর্মরত এনজিওসমূহ ত্রাণ কাজে ব্যাপক ভূমিকা রেখে থাকে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, এদেশের গ্রামের ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নতির ক্ষেত্রে এনজিওগুলো কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।