1 Answers

উদ্দীপকে নাসিমার পোশাক শিল্পকারখানায় কাজ করার মধ্য দিয়ে আধুনিক যুগের সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কিত ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে।

কতিপয় সমাজবিজ্ঞানী সামাজিক পরিবর্তনকে স্তরের ব্যবধান হিসেবে মনে করেছেন। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামাজিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে উন্নতকামী ছিল। অগাস্ট কোঁৎ জনগণের বিকাশকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা- প্রথম বা আদি যুগ হচ্ছে ধর্মীয় যুগ, দ্বিতীয় হলো দার্শনিক যুগ, আর শেষ যুগ হলো পজিটিভিজম বা দৃষ্ট প্রকৃতির যুগ। এ যুগে বিজ্ঞানের মাধ্যমে দৃষ্ট প্রকৃতিকে মানুষ চরম বলে স্বীকার করেছে।

সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেন্সার বলেন, 'সামাজিক পরিবর্তন বলতে মূলত জাগতিক পরিবর্তনকেই বোঝায় যা এক অনির্দিষ্ট অস্থায়ী সাদৃশ্য থেকে নির্দিষ্ট স্থায়ী সাদৃশ্যে চিরন্তন গতিতে বয়ে চলেছে'। স্পেন্সার ছিলেন বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, 'বিবর্তনের ফলে সমাজের রূপ পরিবর্তিত হয়'।

কার্ল মার্কস মানবসমাজের পরিবর্তনের উপাদান হিসেবে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে- ১ উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতি এবং ২. শ্রেণি সম্পর্ক। তার মতে, উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে শ্রেণি সম্পর্কেরও পরিবর্তন ঘটে। তিনি মনে করেন, শ্রেণি সংঘাতের ফলে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে পূর্বাবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এজন্যে তিনি সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনকে পাঁচটি ধাপে বিভক্ত করেন। মার্কস মনে করেন যে, উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতি ও শ্রেণি সংঘাতের মাধ্যমে সমাজের রূপান্তর ঘটে থাকে।

আধুনিক যুগের সমাজবিজ্ঞানীগণ মনে করেন সামাজিক পরিবর্তন একটি অনবরত চলমান গতিধারা। কখনও এ গতিধারা দ্রুততর হয় আবার কখনও তা মন্থর হয়ে পড়ে। এ গতিধারা অবিরাম ও অনন্ত।

4 views

Related Questions