1 Answers

উদ্দীপকে বর্ণিত পানাম নগরের ছোট-বড় ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা, সুপ্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতি, এসেম্বলি হল, স্নানাগার ও সুদৃশ্য প্রাসাদ প্রভৃতি দ্বারা সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সমাজ-ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় যে, আর্য সভ্যতার আগেও উপমহাদেশে উন্নত, নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। এ সভ্যতা কেবল মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা সিন্ধুর অন্যান্য অঞ্চল যেমন- হায়দ্রাবাদ থেকে জ্যাকিবাদ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল। ফলে এসব অঞ্চলেও এ সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

উদ্দীপকে যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের উল্লেখ রয়েছে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায়, বর্তমানে আমরা যে আধুনিক নগর সভ্যতাকেন্দ্রিক জীবনযাপন করি তা অনেকাংশেই সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনা দ্বারা প্রভাবিত। এ সভ্যতার নগরগুলোর মতোই আধুনিক শহরগুলোতে অট্টালিকা, সুপ্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতি, এসেম্বলি হল প্রভৃতি দেখা যায়। বস্তুত সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসী বা দ্রাবিড়দের প্রথা, রীতিনীতি ও নির্মাণ কৌশল আর্যরা গ্রহণ করেছিল, যা বিবর্তিত হতে হতে বর্তমান ভারতীয় সমাজ গড়ে উঠেছে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সমাজ-ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

6 views

Related Questions