1 Answers

উদ্দীপক দ্বারা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত প্রাচীন সভ্যতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। মহাস্থানগড়ে একসময় গড়ে উঠেছিল বাংলার প্রাচীনতম নগর পুণ্ড্রবর্ধন। এ প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ উৎস বলে বিবেচিত হয়।

মহাস্থানগড়ে খননের ফলে একটি প্রাচীন শিলালিপি পাওয়া গেছে, যার সময়সীমা যীশুখ্রিষ্টের জন্মেরও ৩০০/৪০০ বছর আগের বলে ধারণা করা হয়। ব্রাহ্মী অক্ষরে খোদিত এ শিলালিপি মৌর্য বংশীয় সম্রাট অশোকের আমলের। এ শিলালিপির পাঠ বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতকে বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া-দিনাজপুর অঞ্চলে একটি সমৃদ্ধ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

মহাস্থানগড় থেকে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলো তৎকালীন সমাজের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা অর্জন করতে সাহায্য করে। এখানে প্রাপ্ত মুদ্রা থেকে বোঝা যায় যে, তৎকালীন সমাজের বিনিময় ব্যবস্থায়, মুদ্রা অর্থনীতির প্রচলন এবং বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।

মহাস্থানগড় এলাকায় প্রাচীন বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতির প্রভাব লক্ষ করা যায়। পরবর্তীতে মহাস্থানগড় অঞ্চলটি শাহ সুলতান বলখি মাহি সরওয়ার (র)-এর বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমানদের দখলে আসে। ফলে সমাজজীবনে মুসলিম সংস্কৃতির প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, বর্তমান বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাস রচনায় উদ্দীপকে উল্লিখিত মহাস্থানগড়ের সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

5 views

Related Questions