1 Answers
রফিক সাহেব বছর শেষে তার উপার্জিত অর্থের একটা অংশ অসহায় মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যয় করেন। এ থেকে বোঝা যায় তিনি জাকাত প্রদান করেন। তার এই ইবাদতটির আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।
কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে সেই ব্যক্তির ওপর জাকাত ফরজ। নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলো ৭.৫ তোলা সোনা বা ৫২.৫ তোলা রূপা কিংবা এর যেকোনো একটির সমপরিমাণ অর্থ। রফিক সাহেব নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ায় তার মোট সম্পদের ওপর ২.৫% হারে জাকাত প্রদান করেছেন।
রফিক সাহেবের মতো ব্যক্তিরা নিয়মিত জাকাত আদায় করলে সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়। ধনী ব্যক্তিদের প্রদানকৃত জাকাতের অর্থ সঠিকভাবে বণ্টন করা গেলে সাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য নির্মূল করা সম্ভব। দরিদ্র-অসহায় মানুষগুলোর অভাব-অনটন দূরীকরণে জাকাতের ভূমিকা অনন্য। এ প্রসঙ্গে সহিহ মুসলিম ও বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, 'জাকাত মুসলিম ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে আর তা ব্যয় করা হবে মুসলিম দরিদ্রদের মধ্যেই।' তাই জাকাতলব্ধ অর্থ পরিকল্পিত উপায় ব্যয় করা হলে সমাজে অভাব-অনটন থাকবে না। তাছাড়া জাকাতের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধের উন্মেষ ঘটে দরিদ্রদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহানুভূতি সৃষ্টি হয়, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান হয় এবং সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ করা যায়। অর্থাৎ আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব বিচারে জাকাতের তাৎপর্য অপরিসীম।
পরিশেষে বলা যায়, যেকোনো রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য জাকাতের বিধান সঠিকভাবে পালনের কোনো বিকল্প নেই।