1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত সেমিনারের অন্যতম বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজচিন্তার ইতিহাস প্রায় দু'হাজার বছরের পুরোনো। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, বাৎসায়নের কামসূত্র, আল- বেরুনির ভারততত্ত্ব ও ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের আইন-ই- আকবরি এবং আকবর নামা ইত্যাদি গ্রন্থে বাংলাদেশের সমাজের চমৎকার সব বিবরণ রয়েছে। স্যার উইলিয়াম জোনসের উদ্যোগে ১৭৮৪ সালে 'রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজ চর্চার সম্পর্কিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সূত্রপাত হয়। ১৮৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ দখলকারী ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি অর্জনের আগে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডি এন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় মার্কসবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন এম. এন রায়, মোজাফফর আহমদ, সুশোভন সরকার, গোপাল হালদার ও বিনয় ঘোষ। এসব সমাজচিন্তাবিদ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতিবিষয়ক অনেক আলোচনা, সমালোচনা করেছেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেছেন। 

সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি এক দিনে তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘ দিনের ইতিহাস।

7 views

Related Questions