1 Answers

উদ্দীপকের ন্যায় মানুষগুলো তথা ড. গণি এবং ড. এ. কে. নাজমুল করিমের মতো মানুষরা নবদিগন্তে আলোর দিশারী। বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিবর্তনের আলোকে এ বিষয়টি দিবালোকের মতো প্রমাণিত।

বাংলাদেশে মৃত্তিকাবিজ্ঞানের শিক্ষায় যেমন ড. গণি অসামান্য অবদান রেখেছেন, তেমনি ড. এ. কে. নাজমুল করিম বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ১৯৪৯-৫০ সালে ড. এ.কে. নাজমুল করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের খণ্ডকালীন লেকচারার এবং পরের বছর পূর্ণকালীন লেকচারার নিযুক্ত হন। এ সময়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি কোর্স হিসেবে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হতো। কিন্তু তাতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন সম্পূর্ণ হতো না। ১৯৫০ সালে প্রখ্যাত ফরাসি প্রফেসর লেভি স্ট্রস বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের পঠন-পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করেন। এ সময় ড. এ. কে. নাজমুল করিম অধ্যাপক অজিত কুমার সেনকে সঙ্গে নিয়ে তার সাথে দেখা করেন এবং সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠায় ইউনেস্কোর সাহায্য-সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এরই ফলশ্রুতিতে লেভি স্ট্রসের সক্রিয় আগ্রহে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নামে স্বতন্ত্র বিভাগ চালু হয়। ড. এ. কে. নাজমুল করিম এখানে শিক্ষাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' নামে একটি বই রচনা করে তিনি সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে সহায়তা করেন। অর্থাৎ তারই উদ্যোগে এদেশে সমাজবিজ্ঞান নামক শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। এটি নতুন জ্ঞানের আলোর পথ প্রশস্ত করে। তাই বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিবর্তনের আলোকে ড. এ. কে. নাজমুল করিমের মতো মানুষদেরকে নবদিগন্তের আলোর দিশারী বলা হয়।

4 views

Related Questions