1 Answers
রোকাইয়ার গ্রামে বিদ্যমান সমস্যা তথা বাল্যবিবাহ ও নিরক্ষরতা প্রতিরোধে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়নের মাধ্যমে সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি তথা সামাজিক সমস্যাবলি চিহ্নিত করা যায়। আমরা জানি, বাংলাদেশে জনসংখ্যাস্ফীতি, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও বাল্যবিবাহসহ নানাবিধ সামাজিক সমস্যা রয়েছে। এসব সামাজিক সমস্যার ধরন, কারণ ও ফলাফল চিহ্নিত করে সমাধান করতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান বিশেষ প্রয়োজন। অর্থাৎ- এসব সমস্যা সমাধানে যে নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে তার জন্য সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক। কেননা সমাজবিজ্ঞান বস্তুনিষ্ঠভাবে সামাজিক সমস্যার প্রকৃতি ও ফলাফল বের করার পাশাপাশি তার আলোকে সমাধান করতে চেষ্টা করে। বিদ্যমান সমস্যার জন্য কোন ধরনের পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমেই নিখুঁতভাবে জানা যায়।
আলোচ্য উদ্দীপকে দুটি সমস্যা (বাল্যবিবাহ ও নিরক্ষরতা) আলোচনা করা হয়েছে। এ দুটি সমস্যা সমাধান বা প্রতিরোধ করতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান আবশ্যক। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাল্যবিবাহ ও নিরক্ষরতা প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমেই সমস্যা দুটির প্রকৃতি ও কারণ বের করতে হবে। কেননা প্রকৃতি ও কারণ বের করা গেলেই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে। আর আমরা জানি, তাত্ত্বিক বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম কাজ হচ্ছে বিদ্যমান সমস্যার প্রকৃতি ও কারণ খুঁজে বের করা। সুতরাং সমাজবিজ্ঞানের একজন মনোযোগী পাঠক তার অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে সহজেই সামাজিক সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানের সাহায্যে গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত জনগণকে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে বাল্যবিবাহ এবং নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, যা এ দুটি সমস্যা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গ্রামে বিদ্যমান সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।