1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত আলিয়ার নানুর শিক্ষা সম্পর্কিত বক্তব্যে কার্ল মার্কস এর মতের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
কার্ল মার্কস তার 'Poverty of Philosophy' গ্রন্থে উল্লেখ করেন, "জ্ঞানের উৎস কী বা জ্ঞানের প্রকৃতি কীরূপ তা আমাদের কাছে কোনো সমস্যা নয়, আর তা অনুসন্ধান করতে যাওয়া বৃথা।" তিনি মনে করেন, সামাজিক অবস্থান দ্বারাই ব্যক্তির জ্ঞান নির্ধারিত হয়। বাস্তব জগতের সাথে ব্যক্তির সম্পর্কের বিন্যাস কীরূপ তা উপলব্ধির মধ্য দিয়েই বস্তুজগৎ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। হেগেল যেখানে সত্যকে উপলব্ধির জন্য ভাব তথা মনোজগতের কথা বলেছেন মার্কস সেখানে সত্যকে বস্তুগত দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, মানুষকেই সত্য প্রমাণ করতে হবে। তার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষার অর্থ কিছু মেনে নেওয়া বা গ্রহণ করা নয় এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করাই হলো শিক্ষার মৌল উদ্দেশ্য। জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়া বিশ্লেষণে মার্কস তার শিক্ষা দর্শনে বলেন, বস্তুজগত হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানের সামগ্রী এবং অজানা কিছুর অস্তিত্ব বস্তু জগতে নেই। তাছাড়া জ্ঞান আহরণ হচ্ছে জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, যা অর্জনের জন্য ব্যক্তির নিজস্ব ভূমিকা থাকবে। মার্কস সমাজতান্ত্রিক দেশের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার এরূপ মত প্রকাশ করেন।
উদ্দীপকে আলিয়ার নানু তাকে বলেছিলেন, বস্তুজগতই হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানের সামগ্রী। জানা যায় না এমন কিছুর অস্তিত্ব বস্তুজগতে নেই। জ্ঞান আহরণের জন্য সারাজীবন সাধনা করতে হবে। তার জন্য নিজেকেই ভূমিকা পালন করতে হবে, যা মার্কস এর শিক্ষা সম্পর্কিত মতবাদটির অনুরূপ।