1 Answers

শ্যামা প্রসাদের আচরণে সামাজিক স্তরবিন্যাসের জাতিবর্ণ প্রকরণের দিকটি পরিলক্ষিত হয়। বর্তমান সময়ে জাতিবর্ণের প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

জাতিবর্ণ প্রথার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অন্তর্গোত্র বিবাহ এবং বংশগতি। কোনো ব্যক্তি যে জাতিবর্ণে জন্মগ্রহণ করে তাকে আজীবন সেই জাতিবর্ণের পরিচয়ই বহন করতে হয়। জাতিবর্ণের সদস্যদেরকে তাদের স্বজাতি বা গোষ্ঠীর মধ্যেই বিবাহ করতে হয়। যেমন- ব্রাহ্মণের ছেলের সাথে ব্রাহ্মণের মেয়ের বিয়ে হয়। জাতিবর্ণ তাই স্থবির এক সামাজিক গোষ্ঠী ব্যবস্থা। উদ্দীপকের শ্যামা প্রসাদ একজন ব্রাহ্মণের মেয়েকে পছন্দ করে ও তাকে বিয়ে করতে চায়, যা মূলত জাতিবর্ণ প্রথার পরিপন্থি। তবে বর্তমান সময়ে জাতিবর্ণের প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে। আধুনিক শিল্পায়িত সমাজে সভ্যতা ও সংস্কৃতির অগ্রগতির সাথে সাথে এই প্রথার প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে ব্যক্তির আয়, মর্যাদা, শিক্ষা, প্রতিপত্তি বা ক্ষমতা স্তরবিন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে। শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা ও ধ্যান-ধারণায় পরিবর্তন আসছে। মানুষ ধর্মীয় গোড়ামি বা কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসছে। ফলে জাতিবর্ণের প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার প্রসারের ফলে মানুষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের পরিবর্তন হচ্ছে, ফলে জাতিবর্ণ প্রথার মতো একটি বদ্ধ ধারণার প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে।

5 views

Related Questions