1 Answers

মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে যে বাহনটি ভূমিকা রেখেছে তা হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জন্মের পর থেকেই একজন মানুষ নিজ ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই প্রথম নিজ ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের সাথে পরিচিত হয়। শিশু পিতামাতা ও দাদা-দাদিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা প্যাগোডায় যেতে ও ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে দেখে। এতে শিশু ধীরে ধীরে নিজ ধর্মীয় রীতিনীতিগুলো শিখে নেয়। আর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সত্যবাদিতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা, মাদকমুক্ত জীবনযাপন ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি অর্জিত হয়। আবার সমাজে ব্যক্তির নৈতিকতার মানদণ্ড কী হবে তা ধর্ম নির্দেশ করে। ধর্ম মানুষকে মন্দ পথ বা মন্দ অভ্যাস পরিহার করে সৎপথে চলার নির্দেশ দেয়। ধর্ম ব্যক্তিকে আচরণে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হতেও শিক্ষা দেয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার পিতা তাকে নিয়ে ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হন। ইমাম সাহেব মাদকাসক্তির পরিণাম, পরকালে এর শাস্তি এবং নৈতিকতার বিষয়ে শিক্ষা দেন এবং বেশকিছু দিন মামুনকে তার সাথে রাখেন। ফলশ্রুতিতে মামুন এখন মাদকাসক্ত থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। মূলত ইমাম সাহেব কর্তৃক ধর্মীয় উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদানই মামুনকে নেশাগ্রস্ত জীবন থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। সুতরাং বলা যায় যে, মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাহনটি ভূমিকা রেখেছে। আর সামাজিকীকরণে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

4 views

Related Questions