1 Answers

উদ্দীপকের মামুনের চাষকৃত মাছটি হলো নাইলোটিকা বা মনোসেক্স তেলাপিয়া।

নাইলোটিকা মাছ ১৯৭৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে প্রথম বাংলাদেশে আনা। হয়। দ্রুত বর্ধনশীল ও ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন এ মাছটি অর্থনৈতিকভাবে আনেক গুরুত্ব বহন করে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, নাইলোটিকা মাছ স্থানীয় জাতের চেয়ে, ৫০-৬০% বেশি উৎপাদনশীল। ৩-৪ মাসে এই মাছ বিক্রয়যোগ্য হয় এবং তুলনামূলকভাবে অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। অগভীর জলাশয়সহ স্বাদু ও লবণাক্ত পানিতে এই মাছ চাষ করা যায়। এ মাছ চাষে সম্পূরক খাবারও কম লাগে।

নাইলোটিকা চাষে প্রতি বিঘা জমিতে বছরে ৩-৫ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়। বাংলাদেশের মৎস্যচাষিদের মধ্যে ৬০% নাইলোটিকা চাষ ও বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত। মৌসুমি পুকুরে নাইলোটিকা চাষ করে বিঘা প্রতি ৪০০-৫০০ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়। প্রতি কেজি পাইকারি দরে ৭০ টাকা হারে বিঘা প্রতি গড়ে প্রায় ৩২,০০০/- টাকা আয় করা সম্ভব, যেখানে এই মাছ চাষে ব্যয় হবে মাত্র ৮,০০০/- টাকা। অর্থাৎ, প্রতি বিঘায় নিট লাভের পরিমাণ প্রায় ২৪,০০০/- টাকা, যেখানে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত প্রায় ৪:১। বাংলাদেশের যেসব এলাকায় নদী-নালা, হাওর, খাল-বিল আছে কিন্তু পুকুর নেই, সেসব এলাকায় খাঁচায় এ মাছ চাষ করা সম্ভব। একটি ২০ ফুট × ১০ ফুট × ৬ ফুট আকারের খাঁচায় বছরে একবার চাষে ৩৬০ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়। এ মাছ বছরে দুই বার চাষ করে দ্বিগুণ আয় করা সম্ভব। এ মাছ সুস্বাদু ও শতক প্রতি ফলন বেশি হওয়ায় রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। সহজ চাষ পদ্ধতি, চাষ ব্যয় কম ও ফলন হার বেশি বলে এর মোট উৎপাদন চাষকৃত মৌসুমি মাছগুলোর মধ্যে শীর্ষে।

সুতরাং, আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত নাইলোটিকা মাছটির চাষ অত্যন্ত লাভজনক।

5 views

Related Questions