1 Answers

উদ্দীপকের ঘটনা-২ সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম মৌল প্রত্যয় সামাজিক নিয়ন্ত্রণের নির্দেশক বলে আমি মনে করি।

সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজ ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে আচরণ করতে বাধ্য করে এবং তাকে সমাজে বসবাস করার উপযুক্ত করে তোলে। সমাজের সদস্য হিসেবে প্রতিটি ব্যক্তির কতগুলো ভূমিকা ও কর্তব্য থাকে। সমাজে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ সামাজিক নিয়মকানুন মেনে চলে বিধায় সামাজিক ভারসাম্য বা সামাজিক সংহতি রক্ষা করা সম্ভব হয়। কিন্তু ব্যক্তি সব সময় সামাজিক নিয়মকানুন দ্বারা পরিচালিত হয় না বা যুক্তিযুক্তভাবে আচরণ করে না। ফলে সমাজ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আচরণ করতে বাধ্য করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এই দু'ভাবে হয়ে থাকে। পুলিশ, আদালত, জেলখানা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, সমিতি ও ক্লাব ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। আবার সামাজিক আদর্শ, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ঐতিহ্য পরোক্ষভাবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা পালন করে থাকে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যক্তির বহুবিদ বিচ্যুতিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া 'র' পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল, তাই মুরব্বি 'গ' তাকে ডেকে বললেন, এমন আচরণ ঠিক নয় এবং এটা সমাজ তোমার কাছে আশা করে না। যার মাধ্যমে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রকাশ পাচ্ছে আবার এর ফলে 'র' আর প্রকাশ্যে সিগারেট খায়নি অর্থাৎ, বিচ্যুতিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ঘটনা-২ সামাজিক নিয়ন্ত্রণকেই নির্দেশ করে যা সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

4 views

Related Questions