1 Answers
আরাফাত সাফিনের বইয়ের মুখবন্ধে লেখা কথাটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক ও যৌক্তিক। অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন পুতপবিত্র জীবন গঠনে ইলমে তাসাউফের জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এক্ষেত্রে খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখতেন। তিনি সব ধর্মের মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসতেন। উদ্দীপকেও এই বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষণীয়।
আরাফাত সাহেব তার বইয়ের মুখবন্ধে লিখলেন, এই বইটিতে রয়েছে মানুষের জীবনে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষুদ্র প্রয়াস। তার এ মন্তব্যটি সঠিক। কেননা তার উক্ত বইটিতে খাজা মুইনুদ্দিন চিশতির (র) জীবনী লেখা হয়েছে। আর মুইনুদ্দিন চিশতি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক এবং মানবিক মূল্যবোধের মূর্ত প্রতীক। তিনি ছিলেন সব ধর্মের ও বর্ণের লোকদের প্রতি উদার। তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব ধর্মের লোকের কাছেই এসব গুণের জন্য প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। তার এ আদর্শ দেখে এক ধনাঢ্য হিন্দু মহাজন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এরকম আরও বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে যার মাধ্যমে তার সহাবস্থান, সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
ওপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় মুইনুদ্দিন চিশতির (র) জীবনী থেকে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনের অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।