1 Answers
উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব রশিদের হজ সম্পর্কিত মন্তব্যটি যথার্থ। হজের ধর্মীয়, সামাজিক, আন্তর্জাতিক শিক্ষার পাশাপাশি আর্থিক ও আত্মিক ত্যাগের শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। হজের আর্থিক শিক্ষা মুসলিমদের আন্তঃবাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। হজের মাধ্যমে উন্নত মুসলিম দেশ অনুন্নত ও দরিদ্র মুসলিমদের সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের দরিদ্রতা নিরসনে জাকাত ও অন্যান্য আর্থিক সাহায্য পাঠাতে পারে। অথবা কাজের সুযোগে করে দিতে পারে।
হজ মানুষকে আত্মগর্ব, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, ঘৃণা, পরনিন্দা, ক্রোধ, কাম প্রভৃতি কুপ্রবৃত্তি থেকে মানুষকে মুক্ত করে। এ সময়ে সব হাজি মৃত্যু পোশাকে নিজেকে সাজায়। তার সন্তানসন্ততি, পরিবার, অর্থ-সম্পদ, ব্যবসায় আর পদমর্যাদার কোনো সংযোগ এ সময় থাকে না। সে একান্তভাবেই আল্লাহর দরবারে উপনীত হয়। এছাড়া হজ পালনকারী পাপাচার, মিথ্যাচার, অশ্লীলতাসহ সব মানবিক দুর্বলতার বিপরীতে আল্লাহর জিকিরে নিজেকে মশগুল রাখে। ফলে তার অন্তর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। অন্যদিকে হজের সময় মুসলিমরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। দীর্ঘ সময়ে তাদেরকে হজের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। ফলে নিষ্ঠার সাথে হজের বিধিবিধান পালন করে তারা ধৈর্যের বাস্তব প্রশিক্ষণ পায়। মূলত হজের মাধ্যমে আর্থিক ও আত্মিক শিক্ষা লাভ করা যায়। আর এ কথাটিই উদ্দীপকের রশিদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।