1 Answers
উক্ত সমাধান অর্থাৎ কিয়াসের মাধ্যমে করা সমস্যার সমাধান কেউ না মানলে তাকে কাফির বলা যাবে না।
কিয়াস ইসলামি আইনের একটি বিজ্ঞানসম্মত ও যৌক্তিক উৎস। এ উৎসটি ইসলামি আইনকে গতিশীল করেছে ও সর্বজনীনতা দান করেছে। এর মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বায়নের নতুন নতুন বিষয়ের বিধান দেওয়া সম্ভব। এসব দিক বিবেচনায় কিয়াস কল্যাণকর। তবে এটি অস্বীকারকারীকে সরাসরি কাফির বলা যুক্তিসঙ্গত নয়। কিয়াসের সব শর্ত পূরণ করে এবং নীতিমালা ঠিক রেখে কিয়াস সম্পন্ন হলে সে কিয়াস ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে। সে আইন মেনে চলা প্রত্যেক মুমিনের জন্য ওয়াজিব হবে। তবে কিয়াস দ্বারা অকাট্য জ্ঞান অর্জিত হয় না। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় জ্ঞান অর্জিত হয়। এজন্য কিয়াসের বিধান অস্বীকার করলে ব্যক্তিকে কাফির বলা যাবে না। তাছাড়া যদি খবরে ওয়াহিদ বা সর্বোচ্চ তিন থেকে ন্যূনতম একজন রাবি বর্ণিত হাদিসও পাওয়া যায় তাহলে কিয়াসের ওপর আমল করা ওয়াজিব হবে না। উদ্দীপকের জেলেরা শরিয়তের বিধান পালন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লে তাদের মধ্যে শরিয়ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি এ সমস্যার সমাধান করেন। আর এ সমাধান তিনি কুরআন-হাদিসের আলোকে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে করেন। এ সমাধান সবাই মেনে নিলে তারা উপকৃত হতে পারে। তবে না মানলে তাদেরকে কাফির বলে সাব্যস্ত করা যাবে না।
ওপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয়, যথার্থ কিয়াস মেনে নেওয়া কল্যাণকর হলেও তা অস্বীকারকারীকে কাফির বলা যথার্থ নয়।