1 Answers
উদ্দীপকে করবীর দাদী প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা ফুটায়। বাচ্চা ফুটাবার সময় অধিকাংশ ডিম নষ্ট হয়ে যায়। বাচ্চা ফুটানো ডিমগুলো নষ্ট হওয়ার কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ডিম অনুর্বর হলে তা থেকে বাচ্চা হয় না এবং তা নষ্ট হয়ে যায়। অনুর্বর ডিমে ভ্রূণ থাকে না বা অসম্পূর্ণ থাকে। ডিম অনুর্বর হওয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহ হলো-
- মোরগ ও মুরগির মধ্যে দৈহিক মিলন না হলে উৎপাদিত ডিমে শুক্রাণু থাকে না। ফলে এ ডিম থেকে বাচ্চা হয় না।
- যদি মোরগের শুক্রাণুর গুণগতমান দুর্বল বা শুক্রাণুর পরিমাণ বা ঘনত্ব কম হয় তবে ডিম অনুর্বর হয়।
- ভারী জাতের মুরগির সাথে হালকা জাতের মোরগের যৌন মিলন হলে শুক্রাণু জরায়ুতে প্রবেশ না করার সম্ভাবনা থাকে, এতে ডিম অনুর্বর হয়।
- মোরগ বা মুরগির চর্বি বেশি হলে ডিম অনুর্বর হয়।
- মোরগ ও মুরগির সুষম খাদ্যের অভাব হলে উৎপাদিত ডিম অনুর্বর হয়। খাদ্যে ভিটামিন 'ডি', 'ই', সেলিনিয়াম ও খনিজ পদার্থের অভাব হলে ডিম অনুর্বর হয়। ডিম পানি দিয়ে ধুলেও অনুর্বর হয়। সংরক্ষণে কোনো সমস্যা হলে সে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে না। রোগাক্রান্ত মোরগ ও মুরগি থেকে উৎপাদিত ডিম অনুর্বর হয়।
এছাড়াও আকস্মিক স্থান পরিবর্তন, আবহাওয়া পরিবর্তন, দুর্যোগ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন প্রভৃতি কারণে ডিম অনুর্বর হয়ে থাকে।
আবার প্রাকৃতিক উপায়ে ডিম ফোটানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় থাকে না। এর ফলেও ডিম নষ্ট হয়ে যায়। এক বছরের কম বয়সী মুরগি দ্বারা ডিমে তা দিলে তা থেকে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া বাহিরের পরিবেশ থেকে খুব বেশি গরম বা ঠাণ্ডা হলে বা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা খুব উঠানামা করলে অনেক সময় বাচ্চা হয় না এবং এক সময় ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায়।