1 Answers

রাসুল (স) কে মুয়াজ (রা) যে উত্তর দিয়েছিলেন তাতে কিয়াসের ইঙ্গিত বহন করে। কিয়াস শব্দের অর্থ: পরিমাপ করা, অনুমান করা বা তুলনা করা ইত্যাদি। মূল আইন যে যুক্তি বা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সে যুক্তির আলোকে উদ্ধৃত নতুন সমস্যার সমাধানে আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিই কিয়াস। উদ্দীপকে এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

উদ্দীপকে হযরত মুয়াজ (রা) এর কুরআন-হাদিসের পাশাপাশি নিজস্ব বিচার বুদ্ধির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে। বস্তুত মানবজীবন অত্যন্ত গতিশীল এবং পরিবর্তনমুখী। প্রতিনিয়ত এখানে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটে। এসব সমস্যার প্রত্যক্ষ ও সরাসরি সমাধান কুরআন-হাদিসে না থাকা খুবই স্বাভাবিক। এসব সমস্যার ইসলামি শরিয়াভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের জন্য কিয়াস অত্যন্ত জরুরি। রাসুল (স) হযরত মুয়াজ (রা) কে ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্তকালীন জাকাত আদায়ের বিধান সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে মুয়াজের কিয়াস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শুনে রাসুল (স) সন্তুষ্ট হন। এ কারণে পরবর্তী সময়ে সব মুজতাহিদ কিয়াসকে ইসলামি আইনের উৎস বলে সমর্থন দিয়েছেন। তাছাড়া মুসলিম জাতিকে আল্লাহ তায়ালা কিয়াস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন  فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِى الْأَبْصَارِ  অর্থ: ‘হে দৃষ্টি শক্তিসম্পন্ন মানুষেরা“ তোমরা চিন্তা গবেষণা কর' (সুরা আল-হাশর: ২)। সর্বোপরি, কিয়াস ছাড়া ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। কেননা, কিয়াস ব্যতীত ইসলাম একটি গতিহীন ও সংকীর্ণ জীবনাদর্শে পরিণত হয়। যার পক্ষে সব দেশের ও সর্বকলের দাবি মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই ইসলামকে সর্বকালীন ও সর্বজনীন জীবনাদর্শে পরিণত করতে কিয়াসের ভূমিকা অপরিসীম।

5 views

Related Questions