1 Answers

আসিফের কর্মকাণ্ডে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি হবে। মানবজীবন গতিশীল। আর এ গতিশীলতার কারণেই সমাজে নিত্য নতুন নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সমস্যার সরাসরি সমাধান যদি কুরআন-হাদিসে না পাওয়া যায়, তাহলে পরামর্শের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে পবিত্র কুরআন। যেমন বলা হয়েছে- 'তোমরা পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো' (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)। এখানে পরোক্ষভাবে ইজমার ইঙ্গিত রয়েছে। ইজমার মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য সংরক্ষিত হয় এবং মুমিনরা বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পায়। কেউ যদি এ নির্দেশ মেনে না নিয়ে নিজের মতানুযায়ী চলার চেষ্টা করে তবে সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

উদ্দীপকে বর্ণিত রক্ত বিক্রয় নিষিদ্ধ সম্পর্কিত সিদ্ধান্তটি ইজমার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদেরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একমত হয়েছেন যে, মুমিন তার অঙ্গপ্রতঙ্গ বা দেহ নিঃস্বার্থ অথবা পরের কল্যাণে দান করতে পারবে। তবে বিক্রি 'করতে পারবে না। কিন্তু আসিফ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলে যে, টাকার বিনিময়ে সে রক্ত বিক্রি করবে। তার এ ধরনের সিদ্ধান্ত জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। তাছাড়া মুমিনদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে, যা মুমিনদের ঐক্য বিনষ্ট করবে। সর্বোপরি ইসলাম যে একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান এ বিষয়ে সমাজে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হতে পারে।

সুতরাং দেখা যায়, ইসলামি শরিয়তে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান দেওয়া হয়নি। তাই শরিয়তসম্মত সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সুষ্ঠু, সুন্দর কল্যাণধর্মী সমাজ গঠন করাই মুমিনের কর্তব্য হওয়া উচিত।

5 views

Related Questions