1 Answers
পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত মুনাফিকের নিদর্শন সম্পর্কিত হাদিসের আলোকে বলা যায়, মফিজ সাহেবের কর্মকাণ্ডে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। অন্তরে কুফরি লালন করে মুখে ইমানের দাবি করা হলো নিফাক। যাদের মধ্যে নিফাক রয়েছে তারা মুনাফিক। ইসলামের জন্য কাফির-মুশরিকদের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হলো মুনাফিকরা। এজন্য মহানবি (স) মুনাফিকদের শনাক্ত করে তিনটি বিশেষ নিদর্শনের কথা বলেছেন, যা মফিজ সাহেবের কর্মকাণ্ডে লক্ষণীয়। সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, "নবি করিম (স) বলেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যথা: যখন সে কথা বলে- মিথ্যা বলে, যখন সে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে, আর তার কাছে যা আমানত রাখা হয় তা আত্মসাৎ করে। উদ্দীপকে বর্ণিত মফিজ সাহেব মিথ্যাচারে অভ্যস্ত। আবার তিনি ওয়াদাভঙ্গকারী। কারণ বন্ধুকে টাকা ধার দেওয়ার কথা বলেও তিনি তা দেননি। তাছাড়া তিনি আমানতের খিয়ানতকারীও। কারণ তিনি এক দোকানদারের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার এরূপ কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গর্হিত। এর ফলে তিনি পার্থিব জীবনে যেমন কাজে সম্মান পাবেন না, তেমনি পরকালেও তাকে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে আগুনে পুড়তে হবে। কারণ সুরা নিসার ১৪৫ আয়াতে বলা হয়েছে- 'নিশ্চয়ই মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।' তাই তার উচিত আল্লাহর কাছে তওবা করে অন্তরকে নিফাক থেকে মুক্ত করা।
পরিশেষে বলা যায়, মুনাফিকদের জন্য আল্লাহ পরকালে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখেছেন। তাই কুরআন-হাদিস মেনে আমাদের সবাকেই এ ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকতে হবে।