1 Answers

'খ' দেশের শাসকের শেষোক্ত কাজের জন্য তাকে প্রকৃত শক্তিমান বলে আখ্যা দেওয়া যায়। মহানবি (স) বলেছেন, সেই ব্যক্তি শক্তিমান নয় যে মল্লযুদ্ধে সক্ষম, বরং শক্তিমান তো সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 'খ' দেশের শাসকের ক্ষেত্রে এই ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিই পরিলক্ষিত হয়।

ক্রোধ একটি রিপু, এর ফলে ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে ওঠে নিজের ওপর ও নিজের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে যথাযথ আচরণ করতে ব্যর্থ হয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্রোধের কারণে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কিন্তু বাইরে থেকে কোনো প্রভাবক না থাকায় ক্রোধের নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। দৈহিক শক্তি থাকলে যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায়। কিন্তু প্রবৃত্তির সাথে বিজয়ী হওয়ার জন্য দৈহিক শক্তি যথেষ্ট নয়। এজন্য প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি। বস্তুত এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই ক্রোধ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যে বিজয়ী হয়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে সেই প্রকৃত শক্তিমান বিজয়ী বীর। 

'গ' দেশের নির্যাতনের হাত থেকে 'ক' দেশকে উদ্ধার করার পর 'ক' দেশটিই আবার 'খ' দেশের সাথে অন্যায় আচরণে লিপ্ত হয়। এ অবস্থায় 'খ' দেশের শাসক প্রচন্ড রেগে যান। তিনি ইচ্ছা করলেই 'ক' দেশের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পরিশেষে বলা যায়, ক্রোধের সময় যে নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সেই প্রকৃত শক্তিমান। আর 'খ' দেশের শাসকও ক্রোধের সময় নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিশোধ নেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে, যা তাকে প্রকৃত শক্তিমান হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

4 views

Related Questions