1 Answers
প্রথমবার জালে ওঠা মাছটি হলো রাজপুঁটি মাছ।
মাছের দেহে সর্বদা বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া যেমন: শ্বসন, বিপাক ইত্যাদি চলতে থাকে। কোনো কারণে এসব স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ বাধাগ্রস্ত হলে মাছে রোগের সংক্রমণ হয়। তাই সফল ও বাণিজ্যিকভাবে রাজপুঁটি মাছ চাষে রোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত দিকগুলো বিবেচনা করা উচিত-
১. মাছ চাষের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখা: পুকুরের মাটি ও পানির গুণাগুণের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে, অর্থাৎ পানির তাপমাত্রা, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও শেওলার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যালোক প্রবেশের জন্য পাড়ের বড় গাছপালা ছাঁটাই ও আগাছা দমন করতে হবে। বন্যার পানিতে যেন পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২. সঠিক মাত্রায় সুস্থ-সবল ও উন্নতজাতের পোনা মজুদ: হ্যাচারি থেকে উন্নতমানের সুস্থ-সবল পোনা সংগ্রহ করতে হবে। অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ না করে পুকুরের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী পোনা ছাড়তে হবে। সাধারণত পুকুরে প্রতি শতকে ১৫-২০ গ্রাম ওজনের ২৫০টি রাজপুঁটি মাছের পোনা মজুদ করা হয়।
৩. সার ও চুন প্রয়োগ: পুকুরে নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। কেননা অতিরিক্ত সার প্রয়োগে পুকুরের পানি দূষিত এবং মাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাছাড়া পুকুর জীবাণুমুক্ত রাখতে বছরে ২-৩ বার চুন প্রয়োগ করতে হবে।
৪. সুষম খাদ্য: সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের মাধ্যমে মাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায়। কারণ সম্পূরক খাদ্যে সকল পুষ্টি উপাদান সুষম মাত্রায় থাকে। যার ফলে মাছের অপুষ্টিজনিত রোগ কম হয়।
৫. স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা: শারীরিক বৃদ্ধি ও রোগ-বালাই পরীক্ষার জন্য মাসে অন্তত ১ বার জাল টেনে মাছের সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো মাছে রোগের সংক্রমণ দেখা দিলে আক্রান্ত মাছ পুকুর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অর্থাৎ, উন্নত জলজ পরিবেশ, সুষম খাদ্য ও সঠিক খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাঁজপুটি মাছের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।