1 Answers
শিহাব সাহেবের দেখা মুসলিম নামধারীদের সাথে সুরা বাকারায় বর্ণিত মুনাফিকদের আচরণের সাদৃশ্য রয়েছে। যারা অন্তরে কুফরি (আল্লাহর অবাধ্য) লালন করে কিন্তু মুখে ইমানের (আল্লাহ ও ইসলামের যাবতীয় বিষয়ের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস) দাবি করে তারাই মুনাফিক। তারা নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য মানুষে মানুষে শত্রুতা সৃষ্টি করে। তাদের নেতিবাচক ভূমিকার জন্য মানবসমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা নেমে আসে। এমন বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টির বিষয়টিই উদ্দীপকের মুসলিম নামধারীদের কর্মকাণ্ডে দেখা যায়।
শিহাব সাহেব মুসলিম নামধারী কিছু লোককে রাস্তায় চাঁদাবাজি এবং গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখলেন। তিনি তাদের এরূপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে তারা সন্ত্রাসের কথা অস্বীকার করে নিজেদেরকে সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইল। শিহাব সাহেব তাদের জন্য আফসোস করলেন। কারণ তারা শান্তি এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে পার্থক্য করার অনুভূতিও হারিয়ে ফেলেছে। সুরা বাকারার ২য় রুকুতে বর্ণিত মুনাফিকদের অবস্থাও এরকম। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে জনজীবন বিপর্যপ্ত ও বিধ্বস্ত হয়। সচেতন মানুষ ও মুমিনগণ এ নেতিবাচক কর্মকাণ্ড তাদের থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলে তাও ব্যর্থ হয়। কারণ মুনাফিকদের পাপপ্রবণতার কারণে আল্লাহ তাদের বিবেক- বুদ্ধি কেড়ে নিয়েছেন। তাই তারা নিজেদেরকে বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হিসেবে মনেই করে না। বরং নিজেদেরকে তারা শান্তি- শৃঙ্খলা ও সুসম্পর্ক স্থাপনের দূত মনে করে। সুতরাং দেখা যায়, শিহাব সাহেবের দেখা মুসলিম নামধারীরা সুরা বাকারায় বর্ণিত মুনাফিকদেরই প্রতিরূপ।