1 Answers
কুরআন না শিখে জনাব আলিফ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশাল ভান্ডার থেকে বঞ্চিত হয়েছে- জনাব জামিলের উক্তিটি সঠিক এবং যথার্থ।
জনাব আলিফ ছোটবেলায় পিতা-মাতার অবহেলায় পবিত্র কুরআন শিখতে পারেননি; বড় হয়েও তিনি তা শেখার চেষ্টা করেননি। এ কথা শুনে তার বন্ধু জামিল কুরআন না শিখে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তার এ কথাটি অত্যন্ত যৌক্তিক। কারণ পবিত্র কুরআন হচ্ছে সব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভাণ্ডার। অতীত জাতির ইতিহাস, বর্তমান ঘটনার বিশ্লেষণ এবং নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে কুরআন সর্বতোভাবে নির্ভুল উৎস। সব রকমের জাগতিক, বৈষয়িক ও ধর্মীয় জ্ঞান- বিজ্ঞানের মূল উৎস আল কুরআন। ব্যাকরণ, আইন, আধ্যাত্মিকতা, গণিত, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, দর্শন, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, সাহিত্য-তর্কশাস্ত্র, অলংকারশাস্ত্র, ফারায়েজ (সম্পদ বণ্টননীতি), বর্ষপঞ্জীসহ জীবনঘনিষ্ঠ সব প্রয়োজনীয় জ্ঞানের মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে পবিত্র কুরআনে। মূলত এমন কোনো বিষয় নেই যা পবিত্র কুরআনে পরিবেশিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, 'আমি পবিত্র কুরআনে কোনো কিছুই বাদ দেইনি' (সুরা আনআম-৩৮)। কাজেই যারা কুরআনকে জানবে না, কুরআন শিখবে না তারা পবিত্র কুরআনের এই অমূল্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে। আর যেহেতু জনাব আলিফ পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে জানেন না, কাজেই তিনিও এই মহামূল্যবান সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
পবিত্র কুরআনের আলোচ্য বিষয় বিবেচনা করে বলা যায়, জনাব জামিলের উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।