1 Answers
উদ্দীপকে ইসলামি অর্থব্যবস্থার সাথে পাশ্চাত্য ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যর কথা বলা হয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের মূলনীতি অনুসরণ করা হয়। এতে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে পাশ্চাত্য ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় মূলনীতি হিসেবে অর্থনীতিবিদদের ব্যক্তিগত অভিমতই মুখ্য। এতে পরিবর্তন পরিবর্ধন অহরহ হয়।
ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের মূল মালিক আল্লাহ। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ও পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থায় মানুষকেই মালিক ভাবা হয়। এ অর্থব্যবস্থায় সুদ নিষিদ্ধ। অন্যান্য অর্থব্যবস্থায় এতে বিধি নিষেধ নেই। এ অর্থব্যবস্থায় মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো পণ্যের (মদ, ভাং, গাঁজা, বিড়ি, সিগারেট প্রভৃতি) ব্যবসা হারাম। কিন্তু প্রচলিত পাশ্চাত্য ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় এরূপ কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন। কিন্তু পাশ্চাত্য পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ন্যায়নীতির তেমন কোনো তোয়াক্কা না করে সম্পদ আহরণে ও খরচের প্রাধান্য বেশি থাকে। অর্থ উপার্জনের জন্য ইসলামি অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থা অনুসরণ করতে হয় এবং ব্যক্তি অপচয় ছাড়া তার ব্যক্তিগত খরচের জন্য নিজ উপার্জিত অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীন। কিন্তু পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সীমারেখা নেই। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তির তার অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকেই স্বীকার করা হয় না।
অতএব, উদ্দীপকের অধ্যাপক সাখাওয়াত সাহেব ইসলামে অর্থব্যবস্থার সাথে পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মৌলিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যর কথা বলেছেন।