1 Answers
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, জায়েদ হযরত মাওলানা শাহ আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ (রহ) এর পিতার কথা বলেছে। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, জায়েদ ছারছিনার প্রথম পির সাহেব যুগের শ্রেষ্ঠ সমাজসংস্কারক হযরত মাওলানা নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ)-এর কথা বলেছে। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি, সমাজসংস্কারের মহান ব্রত পালন করতে গিয়ে নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন ছারছিনা দারুসসুন্নাত আলিয়া মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসাটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সর্বপ্রথম কামিল (স্নাতকোত্তর পর্যায় পাঠদানকারী) মাদ্রাসা। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের প্রায় সকল থানায় অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাসমূহ 'সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা' এবং 'নেছারিয়া মাদ্রাসা' হিসেবে পরিচিত।
তার জীবদ্দশায় চল্লিশ খানা পুস্তক রচনা করার মাধ্যমে শিক্ষা | বিস্তারে ঈর্ষণীয় অবদান রাখেন। তরীকুল ইসলাম, ফতোয়ায়ে সিদ্দিকিয়া, মাযহাব ও তাকলীদ, নারী ও পর্দা, আল জুমাআ, মাসাঈদে আরবাআ তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এসব পুস্তক বাংলা ভাষায় ইসলামি পুস্তকাদির চাহিদা পূরণে যথার্থ ভূমিকা পালন করছে।
তালিম অর্থ শিক্ষা দেওয়া এবং তারবিয়্যাত অর্থ প্রশিক্ষণ। তিনি নিজ বাড়ির বিশাল ময়দানে প্রতিবছর দুইবার বৃহদাকার মাহফিল, কয়েকবার তালিমি জলসার মাধ্যমে দেশের সকল অঞ্চল থেকে আগত লক্ষাধিক মানুষকে তালিম ও তারবিয়্যাত দিতেন। ইসলামি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি 'পাক্ষিক তাবলীগ' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। দেশের প্রাচীনতম এ ইসলামি পত্রিকাটি বর্তমানেও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। ছারছীনার পির সাহেব হযরত মাওলানা নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ) 'বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ' এবং 'বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ' নামক অরাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, জায়েদ যে মহান ওলির কথা বলেছে, ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিস্তারে তার অবদান অনস্বীকার্য।