1 Answers

লাল গরুটি বাচ্চা প্রসব করেছে তাই প্রসব পরবর্তী যত্ন ও পরিচর্যা 'নিতে হবে। শুধু গর্ভকালীন সময়ে নয় বাচ্চা প্রসবের সময় এবং পরেও গাভির বিশেষ যত্ন নিতে হবে। গাভির প্রসব পরবর্তী যত্ন ও পরিচর্যা নিচে দেওয়া হলো-

প্রসবের পর গাভির যাতে ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাচ্চা প্রসবের পরপরই গর্ভফুল দূরে নিয়ে গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হবে। কারণ গাভি গর্ভফুল খেয়ে ফেলতে পারে। এতে গাভির অজীর্ণতা দেখা দেবে এবং দুগ্ধ উৎপাদন কমে যাবে। প্রসবের ৮-১২ ঘণ্টার মধ্যে যদি গর্ভফুল না ঝরে তাহলে ডাক্তারের সাহায্য নিয়ে ফুল বের করে ফেলতে হবে। বাচ্চা প্রসবের পর অল্প গরম পানিতে ০.০১% পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে গাভির যৌনাঙ্গ, দেহের পিছনের অংশ ও লেজ ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিতে হবে। প্রসবের সময় প্রসবনালিতে ক্ষতের সৃষ্টি হলে সেখানে যাতে মাছি বসে রোগজীবাণু ছড়াতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সদ্যজাত বাচ্চাকে শুকনো খড়ের উপর রেখে গাভিকে বাছুরের শরীর চাটতে দিতে হবে। গাভির ওলান ও বাঁট কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে বাঁটে মুখ লাগিয়ে বাছুরকে শালদুধ খাওয়াতে হবে। গাভিকে নিয়মিত সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে। প্রসবের পর গাভির দ্বারা কোনো পরিশ্রমের কাজ করানো যাবে না। কারণ এতে দুধ উৎপাদন কমে যাবে এবং পরবর্তীতে প্রজননে সমস্যা হতে পারে। গাভি ও দোহনকারী বা দোহনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি দ্বারা ওলানে যেন ক্ষতের সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রসবের পর শাল দুধের সাথে ক্যালসিয়াম অধিক হারে বের হওয়ার ফলে গাভি ক্যালসিয়ামের অভাবে দুধজ্বর নামক রোগে ভুগতে পারে। এ জন্যে গাভিকে প্রচুর ঘাস এবং খনিজ মিশ্রণ সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য খাওয়াতে হবে। দুধজ্বর হলে গাভি ঘাড় বাঁকা করে মাটিতে শুয়ে পড়বে এবং ওলান শক্ত হয়ে যাবে। এই অবস্থা হলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা করতে হবে। অতএব প্রসবের পর গাভির সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ও দুধ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে উল্লিখিত প্রসব পরবর্তী যত্ন ও পরিচর্যা করা জরুরি।

 

4 views

Related Questions