1 Answers
মেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার আলোচিত বিষয় ছিল বাংলাদেশে পশুসম্পদ উন্নয়নের সমস্যা।
এ দেশে পশুসম্পদ খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো উন্নত জাতের অভাব। এ দেশের গবাদি পশুগুলো ওজনে যেমন কম, তেমনি আকারেও ছোট। এদের দৈহিক শক্তিও কম হয়। বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিকাজ পরিচালনা, পরিবহন ও যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় পশুর সংখ্যাও অনেক কম। তাছাড়া রোগব্যাধির আক্রমণে প্রতিবছর বহু গবাদিপশু মারা যায়। বন্যা, খরা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দূর্যোগেও বহু পশুর মৃত্যু ঘটে। বাংলাদেশে পশুসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম আরেকটি সমস্যা হলো পশু খাদ্যের স্বল্পতা। সবুজ ঘাসের চারণভূমি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বনভূমি ও অন্যান্য পতিত জমি ক্রমাগত চাষের আওতায় আনায় চারণক্ষেত্রের অভাবে গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুর উন্নত বাসস্থানের ব্যাপারে অধিকাংশ খামারিই সচেতন নয়। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পশুর জাতের উন্নয়ন ঘটানোর বিষয়টি এখনো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রসার লাভ করেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিম্নমানের পশু দ্বারা প্রজনন করানো হয় বলে মাংস ও দুধের উৎপাদন ভালো হয় না। চাষাবাদ, ফসল মাড়াই ও পরিবহনে পশুর পরিবর্তে যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহারের কারণে মানুষ পশু পালনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
উপরে বর্ণিত সমস্যাগুলো নিয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মেলায় আলোচনা করেছিলেন।