3 Answers

Md Ariful Islam
বিএসসি(সিএসই), এমবিএ(মার্কেটিং)
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Bissoy.com

ধনের মানুষ, মানুষ নয় মনের মানুষই মানুষ

 ,

মানুষ জন্ম থেকেই দুটি পরিধির মধ্যে বাস করে। একটি আত্মপরিধি অন্যটি বিশ্বপরিধি। একদিকে থাকে আত্মসুখ ও ঐশ্বর্য আকাক্সক্ষা অন্যদিকে থাকে ত্যাগ ও মানবকল্যাণের চিন্তা। আত্মপরিধি সম্পন্ন মানুষ প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। কারণ প্রকৃত মানুষ যারা তারা অপরের হিতকামনা করেন। সহানুভূতি, পরার্থপরতা ও সমষ্টিগত কল্যাণবোধ ছাড়া মনুষ্যত্ব থাকে না। এ গুণগুলো মানুষকে সুন্দর মনের অধিকারী করে তোলে। পরোপকারী ও ত্যাগী মনের মানুষই প্রকৃত মানুষ। জনসাধারণের কাছে সংকীর্ণ মনসম্পন্ন প্রবল অর্থঃ শালী লোকের কোনো মূল্য নেই। তারা আপাত সম্মান পেলেও হৃদয়ের শ্রদ্ধাবোধ পায় না কখনই। মৃত্যুর সাথে সাথে তার নামও বিলীন হয়ে যায় পৃথিবী থেকে। মৃত্যুর পর মানুষ আর তাকে স্মরণ করে না কখনই। একমাত্র পরোপকারী মনের অধিকারী বিত্তবান মানুষ সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কথায় বলে ‘বিত্তের চেয়ে চিত্ত বড়।’ সুন্দর মনের মানুষ সম্পদহীন হলেও অপরের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পায়। মানুষ তাকে মৃত্যুর পরেও অনন্তকাল মনে রাখে। মৃত্যুর পরও সে মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় হয় সিক্ত।

শিক্ষা: ধন-ঐশ্বর্য নয়, মানবকল্যাণকামী সহানুভূতিশীল মনই মানুষকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করতে পারে। এ ধরণের মানুষই প্রকৃত মানুষ।

2135 views Answered

ধনের মানুষ অপেক্ষা মনের মানুষই বড়

মূলভাব : অপরিসীম সম্পদের অধিকারীকে সাধারণ মানুষের ওপর সাময়িক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেয় বটে, কিন্তু তা কখনো তাদের অন্তরে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।

সম্প্রসারিত-ভাব : মানবতাবোধ ও মনুষ্যত্বচেতনা মানব চরিত্রের ভূষণ। জাগতিক কামন, বাসনা, ষড়রিপু অবিরত হাতছানি দেয় যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতাব্যাপ্ত ইচ্ছেগুলোকে। পরিহাসপূর্বক মানবতার সেবায় জনহিতৈষণায় আত্মনিয়োগ করাই সমীচীন। ধনসম্পদ বলে মানুষ ধনী হয় কিন্তু প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। বরং অগাধ বিত্ত বৈভব আরও লোভের জন্ম দেয় আর লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। ধন মানুষকে সমাচ্ছন্ন-মোহচ্ছন্ন করে রাখে। জীবন জীবিকার তাড়নায় ও তাগিদে ইহলোককে সার্থক করে নরলোকে জাহান্নামবাসী হওয়া কোনো বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন মনুষ্য সন্তানের জন্য কাম্য হতে পারে না। তাই ধনের পরিবর্তে মনুষ্যত্বের চর্চা করাই বিধিসম্মত। যে ব্যক্তি মূর্খ, কোনো প্রকার জ্ঞানের অধিকারী নয়, সে যদি ঐশ্বর্যশালী হয় তবে মানুষ তাকে মৌখিক সমাদর করলেও সম্মান করে না। সম্মুখে তাকে কিছু না বললেও পশ্চাতে তার মূর্খতা নিয়ে তারা উপহাস করে। কিন্তু যে সকল ব্যক্তি জ্ঞানী, প্রতিভাবান, চরিত্রবান এবং পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, তাঁদের দেখলে মানুষের মাথা অনায়াসে অবনত হয়ে আসে এবং তাদের অন্তর ভক্তিরসে সিক্ত হয়ে যায়। এ সকল মহৎ মনুষ্যসন্তান মানুষের কাছে কখনো সমাদর প্রকাশ করেন না। কিন্তু জাগতিক মানুষ তাঁদের ভক্তিভরে স্মরণ করে এবং চিরকালের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখে রাখে। পক্ষান্তরে, ঐশ্বর্যশালীর প্রতিপত্তি ক্ষণস্থায়ী মৃত্যুর সাথে সাথে তার নাম নশ্বর পৃথিবী হতে মুছে যাবে। এমনকি স্বজনদের স্বরণেও তিনি হন চিরতরে লুপ্ত। মোটকথা, ঐশ্বর্যসমৃদ্ধ ব্যক্তিবর্গ মানুষের উপর বাহ্য প্রভাব বিস্তার করলেও, তাঁদের হৃদয়ভাণ্ডারে প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থ হন। মৃত্যুর অমোঘ পরশের সাথে সাথে তাঁদের নামের চিরপ্রস্থান ঘটে। তাই তারা ধনের মানুষ হলেও মনের মানুষ নন। তারা ধনী হলেও প্রকৃতপক্ষে মহৎ ও সচ্চরিত্রবান নয়, বড় মানুষদের সঙ্গে তুলনা করলে তারা নিতান্তই দরিদ্র, হীনবল।

অগাধ সম্পত্তির অধিকারী হলেই মানুষ বড় হয় না। কারণ অর্থ-সম্পদ মানুষের মনের মুক্তি আনয়ন করে না। মনুষ্যত্ব অর্জনের মাধ্যমেই কেবল মনের মুক্তি সম্ভব। তাই অর্থ নয় মনের মানুষই বড়।

2135 views Answered

ধনের মানুষ অপেক্ষা মনের মানুষই বড়

ভাব-সম্প্রসারণ : ধনসম্পদের অধিকারী হলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্যে প্রয়োজন মনের উদারতা ও বিশ্বাস। তাই ধন থাকলেই ধনী হওয়া যায় না। ধনী হওয়ার জন্যে প্রয়োজন প্রশস্ত মন। 

একদিকে ঐশ্বর্য-আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে ত্যাগ-মহিমা; একদিকে আত্মসুখ, অন্যদিকে মানব কল্যাণ- মানব- জীবনের এই দুই দিগন্ত। এক দিগন্ত তাকে ডাকে আত্ম-পরিধির মধ্যে, অন্য দিগন্ত ডাকে বিশ্বের পরিধিহীনতার মধ্যে। বিত্ত এবং চিত্তের মধ্যে স্থাপন করতে হবে সুষম সংগতি। ‘বিত্ত’ যেন বিষয়-বিষ-বিকারে পরিণত না হয় এবং ‘চিত্ত’-ও যেন কেবল স্বপ্ন-বিলাসিতার প্রতীক মাত্র না হয়। বিত্ত-বাসনা এবং চিত্ত-বিলাসের মধ্যে সংগতি স্থাপিত না হলে জীবনের সার্থকতা নেই। আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি রয়েছে। কিন্তু এসব বিত্তবানের সমাদর ক্ষণস্থায়ী। তারা সমাজে সাময়িকভাবে সমাদৃত হলেও মানুষের মনে স্থায়ী আসন করে নিতে পারে না। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এই পৃথিবী থেকে তাদের নাম চিরতরে বিলীন হয়ে যায়, এমনকি আপন জনেরাও তাদের নাম স্মরণ করে না। মূর্খ ব্যক্তি ধনী হলে সে শুধু মৌখিক সমাদরই পায়, সম্মান পায় না। তার মূর্খতা নিয়ে সবাই হাসি-তামাসা করে। কিন্তু যাঁরা জ্ঞানী, প্রতিভাবান, চরিত্রবান এবং পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, তাঁদের দেখলে মাথা আপনিই নত হয়ে আসে। যুগ যুগ ধরে মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। তাই মৃত্যুর পরেও তাঁরা পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকেন। 

অর্থ মানবজীবনে যে সর্বনাশ ডেকে আনে, হৃদয়বত্তাই মানুষকে সেই সর্বনাশের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এ ছাড়া চিত্তের নির্দেশে বিত্তের সদ্ব্যবহার হলে মানুষ আর আত্মসুখ-সর্বস্ব হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, ‘মঙ্গল করিবার শক্তিই ধন, বিলাসের সামগ্রী ধন নহে।’ যিনি উদারচেতা মহাপুরুষ, তিনি বিত্তের দাস না হয়ে বিত্তকেই নিজের দাসে পরিণত করেন। এটাই মনুষের আদর্শ হওয়া উচিত।

2135 views Answered

Related Questions

Next steps