আমার বয়স ২৮ বছর। আমি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। মাসে প্রায় ১০ হাজার ইনকাম করি।   এর আগে আমার প্রেম ছিল ৩ বছর আগে সেই প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যায়, যেটা পরিবার জানে। কিন্ত এই বিষয়ে তারা উদাসিন। 

গত এক বছর আগে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যায়। কিন্ত আমার পরিবার সেই বিষয়ে কোন আগ্রহ দেখাননি। পরে আমি ৩ বার যেনা (সেক্স) করি ৩ টা মেয়ের সাথে। 

আমি বাবা মার একমাত্র ছেলে,  প্রায় ৭/৮ বিঘা জমি আছে আমাদের। 

এখন আমি জানতে চাই আমার এই যেনার কারনে আমার বাবা মার কি কি সাস্তি হবে? আমার পিতা মাতার আমলে কি কি গুনাহ লেখা হবে? 

2055 views

2 Answers

ইসলামী শরিয়তে ব্যভিচারী অবিবাহিত হলে, ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে একশত বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরশাদ হয়েছে, ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করবে। (সুরা : নুর, আয়াত : ২)।

দুনিয়াতে ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে শান্তি দেওয়া হলেও যিনা কারীর পিতা মাতা কোন শাস্তি পাবেনা।

আল্লাহ বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মের জন্য দায়ী থাকবে। কেউ অন্যের 'পাপের' বোঝা বহন করবে না। (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬৪)।

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। এমনকি পিতা-মাতাও সন্তানের কোন পাপের বোঝা বহন করবে না। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন:


যদি কোন বোঝা ভারাক্রান্ত ব্যক্তি কাউকে তার বোঝা বহন করতে ডাকে, তবে তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না, যদিও সে তার নিকটাত্মীয় হয়। (সূরা ফাতিরঃ ৩৫:১৮)।

কিন্তু যদি দুনিয়াতে কোন ব্যক্তি এমন পাপ কাজের রীতি-নীতি চালু করে, যার অনুসরণ করে মানুষ পাপ কাজে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের পাপের সমপরিমাণ বোঝা সে ব্যক্তিকেও বহন করতে হবে, যে ব্যক্তি সে রীতি-নীতি চালু করেছে।


হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করবে, সে ব্যক্তি তেমন প্রতিদান পাবে যেমন প্রতিদান পাবে সে পথের অনুসারীরা; তবে তাদের প্রতিদান থেকে কোন কম করা হবে না। আর যে ব্যক্তি মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে সে ব্যক্তি তেমন গুনাহগার হবে যেমন গুনাহগার হবে সে পথের অনুসারীরা। তবে তাদের গুনাহ থেকে কম করা হবে না। (সহীহ মুসলিম হা: ৬৯৮০) ।

সুতরাং আপনার পরিবার যদি আপনাকে বিবাহ না করায় এক্ষেত্রে যদি যিনায় লিপ্ত হন, তারা যদি বিবাহের বিষয়ে কোন আগ্রহ দেখায় বা এই বিষয়ে উদাসিন থাকে তবে পিতা মাতার আমলে গুনাহ লেখা হবে।


2055 views

প্রশ্নটির উত্তর সাবরুল ভাই অনেকটা দিতে পেরেছেন তবে এর সাথে আরো কিছু এড করতে চায়। 

বাবার প্রতি সন্তানের যেমন হক রয়েছে ; তেমনি সন্তানের প্রতিও বাবার কিছু হক রয়েছে, যা পূরণ করা অবশ্যক।  তার মধ্যে সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিবাহের ব্যবস্থা করা টা অন্যতম। 


নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তিনটি কাজ দ্রুত করো ১. ওয়াক্ত হলে নামাজ পড়া, ২. ছেলে-মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ের ব্যবস্থা করা, ৩. জানাজা উপস্থিত হলে জানাজা পড়া। [তিরমিজি ও মিশকাত]


তাই আপনার যিনার কারণে আপনার মা বাবা গুনাহগার না হলেও, তারা গুনাহগার হবে আপনার হক্ব যথাযথ আদায় না করার কারণে।


আপনি যেনা করেছেন,  অনেক বড় পাপ করেছেন!; যা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় একটি কাজ! ভবিষ্যতে যেন আপনার দ্বারা যেন এমন পাপ না হয় মত দৃড় সংকল্প করুন  এবং দ্বীন এর পথে পূর্ণাঙ্গ ফিরে আসুন।  আল্লাহর রহমত এর ব্যাপারে নিরাশ হবেন না!  তিনি চায়লে আপনাকে ক্ষমাও করতে পারেন। তিনি পরম দয়ালু,  অতি ক্ষমাশীল। 


এখন আপনার করণীয় হতে পারে :

তাদেরকে এবং আপনাকে গুনাহ থেকে বাচাতে যত জলদি হয় বিবাহের কাজ সেরে ফেলুন; আপনি যেহেতু একজন প্রাপ্তবয়স্ক।  আর ছেলেদের জন্য বিয়ের আগে পিতামাতার অনুমতি নেয়া ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বাধ্য নয়। ছেলেরা পিতামাতার অনুমতি নিয়ে বিয়ে করাটা উত্তম সামাজিকতা এবং আল্লাহর পছন্দনীয় কাজ।


তাও যদি সম্ভব না হয়,  ধৈর্য্য, সালাত এবং দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।  তিনিই আপনাকে পথ দেখাবেন। 

আল্লাহ তায়া’লা পবিত্র কোরআন এ বলেন, হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (পারা: ২, সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৩)।


দুনিয়া সৃষ্টি করা হয়েছে পরীক্ষাস্বরূপ; পরীক্ষা যত বড় প্রতিদান ততই বড়।  আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষকেই যৌন চাহিদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কিন্ত যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা যৌনাঙ্গ সংযত রাখে। 


অন্যত্র বলেন, মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? ( আল আনকাবুত, আয়াত ৬৯)


তিনি আরো বলেন, 'অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি বিপদ-কষ্টের মধ্যে। ( বালাদ, আয়াত ৪)  তবে সুসংবাদ দাও- সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়াতপ্রাপ্ত। -সূরা বাকারা


আর একটা আয়াত দিয়ে উত্তর টা শেষ করতে চায়,  

আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেন না' — আল-বাক্বারাহ ২৮৬

2055 views

Related Questions

হেবা কিঃ?
1 Answers 6828 Views
দান কিঃ?
1 Answers 8664 Views