স্বামীর টাকা ব্যয় করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর কতটুকু ও কি ধরণের অধিকার আছে?


কোনো মেয়ে যদি স্বামীকে না জানিয়ে তার সম্পদ থেকে নিয়ে তার অসহায় মা-বোনকে কিছু আর্থিক সাহায্য করে, তাহলে তা জি জায়েয হবে? কারণ স্বামী জানলে হয়ত এর অনুমতি দিবে না। তবে নিয়ত আছে আল্লাহ রহমতে অবস্থা ভালো হলে স্বামীকে বিষয়টি জানাবে ইনশাআল্লাহ। এটা কি হারাম হবে?

1681 views

1 Answers

অনুমতি ছাড়া স্বামীর অর্থ-সম্পদ ব্যয় করা স্ত্রীর জন্য যেমন বৈধ নয় তদ্রূপ স্ত্রীর ব্যক্তিগত অর্থ-সম্পদ অনুমতি ছাড়া স্বামীর জন্যও ব্যায় করা বৈধ নয়। তবে টুকাটাকি প্রয়োজনে স্ত্রী যদি তার স্বামীর অজান্তে কিছু অর্থ খরচ করে বা দান-সদকা করে আর স্বামীর স্বভাব-প্রকৃতি থেকে জানা যায় যে, সে এতে রাগ করবে না বা কষ্ট পাবে না তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। এটি তার মৌন সম্মতি বলে ধরা হবে।

কিন্তু স্বামী যদি রাগ করে বা নিষেধ করে তাহলে তাহলে কম হোক বা বেশি হোক তার সম্পদ খরচ বা দান-সদকা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

( لا تُنْفِقُ الْمَرْأَةُ شَيْئًا مِنْ بَيْتِهَا إِلا بِإِذْنِ زَوْجِهَا . فَقِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَلا الطَّعَامَ ؟ قَالَ : ذَاكَ أَفْضَلُ أَمْوَالِنَا ) . صححه الألباني في صحيح أبي داود .

“একজন মহিলা তার স্বামীর বাড়ি থেকে কোন অর্থ-সম্পদ খরচ করবে না তার অনুমতি ব্যতিরেকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল: খাদ্যদ্রব্যও নয়?

তিনি বললেন, এটি তো আমাদের সবচেয়ে উত্তম সম্পদ।” (সুনান আবু দাউদ, সহীহ-আলবানী)

সুনান আবু দাউদের ব্যাখ্যা গ্রন্থ আউনুল মাবুদের গ্রন্থকার এর ব্যাখ্যায় বলেন: স্বামীর স্পষ্ট অনুমতি লাগবে অথবা তার অবস্থা ও আচরণ থেকে অনুমতি বুঝা যাবে।

অবশ্য স্বামী যদি তার স্ত্রীর ভোরণ-পোষণ না দেয় তাহলে স্ত্রীর অধিকার আছে, তার স্বামীর সম্পদ থেকে তার অনুমতি ছাড়াই নিজের ভোরণ-পোষণের প্রয়োজন পূরণ করার। এটি তার হক।

 সাধারণভাবে স্বামীর অর্থ-সম্পদ হেফাযত করা একজন দ্বীনদার নারীর দায়িত্ব। স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী খেয়াল-খুশিমত খরচ করা শুরু করলে পরষ্পরের মনমালিন্য সৃষ্টি হবে যা তাদের দাম্পত্য জীবনকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।

 স্ত্রী তার নিজস্ব অর্থ-সম্পদ স্বামীর অনুমতি ছাড়া নিজের প্রয়োজনে খরচ করতে পারে বা আল্লাহর পথে দান করতে পারে। এতে স্বামীর বাধা দেয়া উচিৎ নয় যদি স্ত্রী সচেতন ও জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে থাকে। এ মর্মে রাসুল সা. এর সহধর্মীনী মাইমুনা রা. কর্তৃক তার অনুমতি ছাড়াই গোলাম মুক্ত করার হাদীসটি প্রণিধানযোগ্য।আশা করি বুঝতে পারছেন।

1681 views Answered

Next steps