1 Answers
প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ভেষজ চিকিৎসা বেশ নিরাপদ ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বের ৮০ শতাংশ মানুষ রোগবালাইয়ের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে নানা ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধ ব্যবহার করে।ভেষজ বা উদ্ভিজ্জ উপাদান ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি নতুন কিছু নয়। অনেক আগ থেকেই মানুষ প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করছে। যেমন কুইনাইন গাছের ছাল থেকে ম্যালেরিয়ার ঔষধ । হার্টের ওষুধ ডিজিটালিস আসে উদ্ভিদ থেকে।
ওষুধ এবং ভেষজ পণ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। ঔষধ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। ওষুধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা থাকে কি মাত্রায় গ্রহণ করতে হবে । আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ব্যাপার সতর্ক করেই একজন চিকিৎসক তার প্রেসক্রিপশন এর মাধ্যমে ওষুধ দিয়ে থাকেন।
কিন্তু ভেষজ ঔষধ কোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা মাধ্যমে অনুমোদিত নয় । তবে এগুলো যেহেতু উদ্ভিজ্জ পদার্থ থেকে তৈরি করা হয় সে ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করা নিরাপদ । তবে যদি কোন ভেষজ উপাদান সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না রেখে ভেষজ ওষুধ দেওয়া হয় । তবে সেটা মারাত্মক যুকিপূর্ণ হতে পারে । লতাপাতা নিয়ে উন্নত বিশ্বে তেমন গবেষনা হয়নি, আবার ভারত ,বাংলাদেশে এ ধরনের গবেষনা চালানোর যোগ্যতাই নেই। তাই এসব ভেষজ চিকিৎসা চলে শুধু অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিতদের মধ্যে মার্কেটিং এর উপর ভিত্তি করে। এসব লতাপাতায় এমন বিষাক্ত পদার্থ থাকতে পারে যা নিয়মিত সেবন শরীরের কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।
বড় বড় জটিল রোগের জন্য মোটেই ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। যেমন, জন্ডিস, হেপাটাইটিস, ক্যান্সার । কারণ এক্ষেত্রে ওষুধ যেগুলো দেওয়া হয় সেগুলো বিশ্বস্ত নয়। কিন্তু সাধারণত জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি, কফ, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এই সকল রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভেষজ উপাদান ভেষজ কফের সিরাপ, এছাড়াও ভেষজ বিভিন্ন সিরাপ নিরাপদ।