রনিদের এলাকার মতাে পরিস্থিতিতে তােমার এলাকায় কোভিড আক্রান্তদের জন্য বিদ্যালয়ের বন্ধুরা মিলে কী ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ নেয়া যায়, তার একটি তালিকা প্রণয়ন কর?
উদ্দীপকটি পড় ও নিচের প্রশ্নগুলাের উত্তর দাও:
কোভিড-১৯ এর কারণে রনির স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেটি কোভিড কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত সপ্তাহে রনিদের পাশের বাড়িতে একজন কোভিড পজেটিভ রােগী সনাক্ত হয়।
পাড়া-প্রতিবেশিরা সবাই তাদের বাড়ির সাথে সব ধরনের যােগাযােগ বন্ধ করে দেয়ায় পরিবারটি চরম অসহায় পরিস্থিতিতে পড়ে। এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে এবং তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের এই দূর্ভোগ লাঘব করেন।
3 Answers
রনিদের এলাকার মতাে পরিস্থিতিতে তােমার এলাকায় কোভিড আক্রান্তদের জন্য বিদ্যালয়ের বন্ধুরা মিলে কী ধরনের স্বেচ্ছাসেবা মূলক উদ্যোগ নেয়া যায়, তার একটি তালিকা প্রণয়ন কর:
উত্তর: রনিদের এলাকার মতো পরিস্থিতিতে আমার এলাকায় কোভিড আক্রান্তদের জন্য বিদ্যালয়ের বন্ধুরা মিলে যে ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ নেয়া যায়, তার একটি তালিকা প্রণয়ন করা হলো-
- গণপরিবহন এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে পারি।
- মাস্ক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানাতে পারি।
- কর্মক্ষেত্রে অবস্থানকালে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করার জন্য আহ্বান করতে পারি।
- জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারি।
- করমর্দন ও কোলাকুলির মাধ্যমেও কোভিড ছড়াতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সচেতন করতে পারি।
- করোনা আক্রান্তদের আর্থিকভাবে সহায়তার জন্য জনমত গড়ে তুলতে পারি।
- আক্রান্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম গঠন করতে পারি।
- দুজন ব্যক্তির মধ্যে কমপক্ষে দূরত্ব ২ হাত বা ৩ ফুট হতে হবে এ ব্যাপারে জানাতে পারি।
- যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না অথবা বেসরকারি টিভি চ্যানেল গুলো অনুসরণ করেন না। তাদের অনেকেই এখনও সচেতন নন। এক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা বজায় রেখে ঘরে ঘরে, হাট-বাজারে, লিফলেট মাইকিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
- হতদরিদ্র, দিনমজুর মানুষেরা দুদিন ঘরে বসে থাকলেই অর্থ সংকটে পড়বে নিশ্চিত। আমাদের সহযোগিতা করতে হবে সবাই মিলে
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কোভিড আক্রান্তদের সংস্পর্শে যেতে চান না, আক্রান্তদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে থাকে। যা হীন মানসিকতার পরিচায়ক।
আমাদের সকলের উচিত আক্রান্তদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা।

উদ্দীপকের রনিদেব এলাকার মতো পরিস্থিতিতে আমাদের এলাকার বিদ্যালয়ের বন্ধুরা মিলে নিম্নোক্ত স্বেচ্ছাসেবা মুলক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
১. যে পরিবারের সবাইকে সঙ্গত কারণে কোয়ারেন্টাইন এ থাকতে হচ্ছে। আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া যেতে পারে।
২. হতদরিদ্র, দিনমজুর মানুষেরা দুদিন ঘরে বসে থাকলেই অর্থ সংকটে পড়বে নিশ্চিত। আমাদের সহযোগিতা করতে হবে সবাই মিলে।
৩. অনেকে বিদেশ থেকে এসেও মানছেন না হোম কোয়ারেন্টাইন নিয়ম। এক্ষেত্রে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বুঝাতে হবে।
৪. যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না অথবা বেসরকারি টিভি চ্যানেল গুলো অনুসরণ করেন না। তাদের অনেকেই এখনও সচেতন নন। এক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা বজায় রেখে ঘরে ঘরে, হাট-বাজারে, লিফলেট মাইকিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৫. দেশ সম্পূর্ণ লকডাউন হওয়ার আগ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারসহ গণজমায়েতের সকল স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
নিজেরা সচেতন ও সুস্থ না থাকলে জনসেবা করাটাও মুশকিল। প্রয়োজনে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাতে হবে। যতটা সম্ভব ঘরে থাকতে হবে। নিজেদের নিরাপদ রেখেই সব করতে হবে। সেচ্ছাসেবামূলক কাজ করা অবশ্যই ভালো কিন্তু নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করে নয়।
রনির এলাকার মতো অবস্থা হলে নিম্নের পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে:
সর্ব প্রথম আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে হবে।
তাদেরকে সবার থেকে আলাদা করতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আলাদা বা আইসোলেশনে রাখতে হবে।
প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
সকালে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে হবে।
জীবাণু নাশক ব্যবহার করতে হবে।
প্রয়োজনে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে সঠিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করতে হবে।
সবাইকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে।
সুতরাং আমরা বলতে পারি নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে করনা কোভিড ১৯ প্রতিরোধে করা সম্ভব হবে।