আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলোঃ" মহান  আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো শাস্তি তওবা করলে শাস্তিটি আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন" এ বিষয়টি কি যেকোনো মাজহাব এবং ইসলামের সকল দল মত নির্বিশেষে কি সমর্থিত? নাকি এ বিষয়টি নিয়ে মতভেদ আছে?

2868 views

2 Answers

তওবার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তওবা করলে আল্লাহ্ ক্ষমা করে দেন এ বিষয়ে হাদিসে পাকেও সুস্পষ্ট বর্ণনা বিদ্যমান। মাযহাব বা কোন ইমাম কর্তৃক মতপার্থক্য নাই।

2868 views

মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো শাস্তি তওবা করলে শাস্তিটি আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন। এ বিষয়টি যেকোনো মাজহাব এবং ইসলামের সকল দল মত নির্বিশেষে সমর্থিত এ বিষয়টি নিয়ে কোন মতভেদ নেই।

তবে উলামা সম্প্রদায়ের উক্তি এই যে, প্রত্যেক পাপ থেকে তওবা করা ওয়াজিব। (অবশ্য-কর্তব্য)। যদি গোনাহর সম্পর্ক আল্লাহর (অবাধ্যতার) সঙ্গে থাকে এবং কোন মানুষের অধিকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ ধরনের তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।

১। পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।

২। পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।

৩। ঐ পাপ আগামীতে দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবা বিশুদ্ধ হবে না।

পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকার সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা গ্রহণীয় হওয়ার জন্য চারটি শর্ত আছে।

উপরোক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল, হকদারদের হক ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যদি কারো উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় অথবা অনুরূপ কোনো দোষ করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে শাস্তি নিতে নিজেকে পেশ করতে হবে অথবা তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। যদি কারো গীবত করে থাকে, তাহলে তার কাছে তা বৈধ করে নেবে।

সমস্ত পাপ থেকে তওবাহ করা ওয়াজিব। আংশিক পাপ থেকে তওবাহ করলে সেই তওবাহ হকপন্থী আলেমগণের নিকট গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে এবং অবশিষ্ট পাপ রয়ে যাবে। তওবা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ঐকমত্যও বিদ্যমান।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সূরা নূরঃ ৩১)।

অর্থাৎ “তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট (পাপের জন্য) ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তার কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর।” (সূরা হূদঃ ৩)।

তিনি আরো বলেছেন, অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর বিশুদ্ধ তওবা।” (সূরা তাহরীমঃ ৮)।

2868 views

Related Questions