আমার কিছু ক্ষন বাদে বাদে বমি আসে আমি এখন কি করব?
আমার অনেক বমি আসে কিন্তু ভালো করে বমি হয় না। গতকাল রাতে কৃমির ওষাধ খাওয়ার পরে আজকে আরো বেশি বমি আসে কিন্তু বমি হয় না। গেসের ওষাধ নিয়মিত খাই, আমার সারা বছর দরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে এখন হামদাদের একটা ওষাধ খাইতেছি কিন্তু ভমি কেন আসতেছে বুঝতে পারতেছি না, এখন আমি কি করব?
2 Answers
বমির সমস্যা যেকোনো সময় যেকোন বয়সে হতে পারে। এটি আসলে কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ মাত্র। বমি নানা কারণে হতে পারে। অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা, অতিরিক্ত মদ্যপান, ফুড পয়জনিং, অতিরিক্ত মানসিক স্ট্রেস, পেটের বিভিন্ন রোগ ইত্যাদি কারণে বমি হয়ে থাকে। এছাড়া গর্ভকালীন সময়ে তো বমি হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। এসব কারণ ছাড়াও অনেকের ভ্রমণের সময় বমি হয়ে থাকে। কারণ যাই হোক না কেন, বমি হওয়াটা সব পরিস্থিতিতেই কষ্টকর। তাই আজ বমির সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন ঘরোয়া উপাদান নিয়ে কথা বলব।
বমির ঘরোয়া প্রতিকার
বমির ঘরোয়া প্রতিকার-
আদাঃ
বমির কথা উঠলে সবার প্রথমে আদার কথা মনে পড়ে। সেই দাদি নানির সময় থেকেই বমি হলে আদার গন্ধ নিতে বলা হত। আদার রস খেলেও বমি উপশম হয়। যখনই বমি বমি ভাব হবে ১ টেবিল চামচ আদার রস ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। অনেক আরাম পাবেন।
দা্রুচিনিঃ
দারুচিনির ঝাল ঝাল গন্ধ ও ঝাঁজ বমি বমি ভাব হলে অনেক আরাম দেয়। এক কাপ ফুটন্ত পানিতে ১/২ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া অথবা ২ ইঞ্চি লম্বা দারুচিনি টুকরো দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার পানিটা ছেঁকে নিন। সময় নিয়ে আস্তে আস্তে খেলে বমিভাব চলে যাবে। তবে দারুচিনি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকর। তাই গর্ভবতী নারীরা এটি খাবেন না।
পুদিনা পাতাঃ
বমি দূর করার জন্য পুদিনা পাতার জুড়ি নেই। বিশেষত বমি যদি পেটের সমস্যা বা গ্যাসের কারণে হয়ে থাকে তাহলে পুদিনা পাতা খুব দ্রুত আরাম দেয়। যদি আপনার কাছে তাজা পুদিনা পাতা থাকে তাহলে ৪- ৫টি পুদিনা পাতা সরাসরি চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। যদি সরাসরি খেতে খারাপ লাগে তাহলে ১ টেবিল চামচ পুদিনা পাতার রস, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১ টেবিল চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে খেয়ে নিন। তবে এই মিশ্রণটি দিনে তিনবারের বেশি খাবেন না।
লবঙ্গঃ
বমি হলে লবঙ্গ খুব ভালো উপশম করে। আপনি দুইভাবে লবঙ্গ খেতে পারেন। সরাসরি ২-৩টি লবঙ্গ চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। অথবা ফুটন্ত পানিতে ৪-৫টি লবঙ্গ ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে চায়ের মত করে খেতে পারেন। আর একটি কাজ করা যায়। কিছু লবঙ্গ শুকনো তাওয়ায় ভেজে গুঁড়ো করে ১ চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। বমির প্রবণতা কমে যাবে।
মৌরীঃ
মৌরী হজমে সাহায্য করে এবং বদহজম ও গ্যাসের থেকে উৎপন্ন বমির উপশম করে। ১/২ চা চামচ মৌরী দেড় কাপ পানিতে ১০ মিনিট ধরে ফোটান এবং ছেঁকে নিয়ে চায়ের মত পান করুন। অনেক দ্রুত আরাম পাবেন। এছাড়াও অল্প একটু মৌরী সময় নিয়ে আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেলেও আরাম পাওয়া যায়।
জিরাঃ
অনেকেই হয়ত জানেন না যে জিরা হজমে অনেক সাহায্য করে। এ কারণে বদহজম ও গ্যাসের কারণে সৃষ্ট বমিতে জিরা অনেক কাজে দেয়। ১ কাপ হালকা গরম পানিতে ১/২ চা চামচ জিরা গুঁড়া ও সামান্য জায়ফল গুঁড়া মিশিয়ে আস্তে আস্তে পান করুন। বমি কমে যাবে এবং হজমের সমস্যায়ও আরাম পাবেন।
কৃমির ঔষধ খাচ্ছেন তাই একটু ধৈর্য ধরুন
আস্তে আস্তে সমাধান হয়ে যাবে, কিছু টিপসঃ
টক জাতীয় খাবারের ফলে শরীরের বমিভাব দূর হয়। লেবুর রসে রয়েছে সাইট্রিক এসিড যা বমিভাব দূর করতে বেশ কার্যকরী। কিন্তু গ্যাস্ট্রিকজনিত বমির ভাব হলে লেবু না খাওয়াই ভালো। তাছাড়া বমি ভাব হলে লেবুপাতার গন্ধ উপকারে আসতে পারে। কারণ লেবুর পাতা শুকলে বমি বমি ভাব দূর হয়।
মুখে এক টুকরা লবঙ্গ রেখে দিন। ধীরে ধীরে চিবুতে থাকুন দেখবেন আপনার মুখ থেকে বমিভাব চলে গিয়েছে।