ফুলকপি ও পাতাকপি কার ভিটামিন বেশি?
1 Answers
পাতা কপির ভিটামিন বেশি পাতাকপির কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা দেয়া হল- ১. এতে প্রচুর পরিমাণে আইরন রয়েছে: পাতাকপিকে মাংসের সাথে তুলনা করা হয়। কারন, মাংসে যে পরিমাণ আয়রন রয়েছে, পাতাকপিতে তার চেয়ে বেশী আয়রন রয়েছে। আপনার ডায়েটের তালিকায় পরিমাণমত আয়রন না থাকলে আপনার শরীরে রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি ও মস্তিষ্কের সমস্যা হবে। আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ আয়রন এই পাতাকপি থেকেই পাবেন। আলাদাভাবে মাংস খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ২. কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে: বিজ্ঞানীরা পাতাকপি নিয়ে অনেক গবেষণা শুরু করেছেন। এতে যে বাইল এসিড রয়েছে তা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। যখন এই বাইল এসিড পেটে ছড়ায়, তখন কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমতে থাকে। ৩. প্রতিদিনের ১০% ওমেগা-৩ এর চাহিদা মেটায়: আমরা সকলেই জানি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এ প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে। ওমেগা-৩ তে দুই ধরণের উপাদান রয়েছে। যথা- ডিএইচএ ও ইপিএ। এগুলো হার্টের সমস্যা ও ক্যান্সার দূর করে। ডিএইচএ উপাদান বিষণ্ণতা ও স্মৃতিভ্রংশ দূর করতে সাহায্য করে। আপনি ইচ্ছা করলে অনেক বেশি মাছ খেতে পারেন, কিন্তু এতে টক্সিন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই, আপনি চিন্তামুক্ত হয়ে পাতাকপি খেতে পারেন। ৪. চোখের ছানি পরা রোগ দূর করে: বর্তমান বিশ্বে ছোট-বড় অনেকের চোখের সমস্যা দেখা দেয়। পাতাকপিতে রয়েছে লুটেন ও জিক্সান্থিন। এই পুষ্টিকর উপাদানগুলো চোখের ছানি পরা রোগ দূর করে। ৫. ওজন কমাতে সাহায্য করে: ওজন কমানোর জন্য খাদ্য তালিকায় কম ক্যালরির খাবার এবং অনেক বেশী পুষ্টির প্রয়োজন হয়। যা পাতাকপিতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যামান। এক কাপ পাতাকপিতে মাত্র ৩৩ ক্যালরি থাকে। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। ৬. ডিটক্সে সাহায্য করে: পাতাকপিতে প্রচুর পরিমাণে সালফার রয়েছে। যা ডিটক্সিফিকেশন এনজাইমের এর মাধ্যমে লিভারকে সুরক্ষা প্রদান করে। পাতাকপিতে ৬৭ প্রকারের গ্লুকোসিনলেট রয়েছে। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ৭. পাতাকপি এক নম্বর সবজি: ওয়াশিংটনের এক সমীক্ষায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, ৮৪ ধরণের সবজির মধ্যে পাতাকপি এক নম্বর নির্বাচিত হয়েছে। কারন, এক কাপ পাতাকপির মধ্যে ৫ গ্রাম ফাইবার, ০ গ্রাম ফ্যাট, ৩ গ্রাম প্রোটিন এবং প্রচুর পরিমাণে খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে। তাহলে, এখন থেকে প্রতিনিয়ত পাতাকপি আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন। এতে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি ও হবে এবং আপনি একটি ভালো ডায়েটের অন্তর্ভুক্ত হবেন। শীতের সবজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফুলকপি। সাধারণত রান্না করে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে বা ভেজে, নানান ধরনের সুপ তৈরি করে বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়। ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটকেমিকেলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর এই সবজি। স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে ফুলকপির বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ক্যান্সার প্রতিরোধক ফুলকপিতে আছে এমন কিছু উপাদান যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন ক্যান্সারের স্টেম সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন ধরনের টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিহত করে। হৃদযন্ত্র ভালো রাখে হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে ফুলকপি বেশ সহায়ক। এর সালফোরাফেন উপাদান রক্ত চাপ কমায় এবং কিডনি ভালো রাখে। তাছাড়া ধমনীর ভিতরে প্রদাহ রোধ করতেও সাহায্য করে ফুলকপি। অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ দহন হওয়া জরুরি। তবে দহনের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সেক্ষেত্রে ক্যান্সার বা এ ধরনের রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। ফুলকপিতে রয়েছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি নিউট্রিয়েন্টস’, যা শরীরের দহন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভিটামিন এবং মিনারেল শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টির প্রয়োজন। নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে। পাশাপাশি আছে ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ফুলকপিতে আছে কলিন (এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ এক ধরনের পানিজাতীয় পুষ্টি উপাদান) ও ভিটামিন-বি, যা মস্তিষ্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কলিন মস্তিষ্কের কগনিটিভ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। অর্থাৎ এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে ও দ্রুত শিখতে সাহায্য করে। এছাড়া বয়সের কারণে স্মৃতিবিভ্রমের সম্ভাবনা এবং শৈশবে টক্সিনের প্রভাবে মস্তিষ্ক দুর্বলতা কমায়। হজমে সহায়ক ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার-জাতীয় উপাদান। যা খাবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। তাছাড়া ফুলকপির ফাইবার খাবার হজম হতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy