ধবল রোগ বা শ্বেতী রোগ। এটা কোন ঔষুধের চিকিৎসা নিলে দ্রুত রোগটা ভালো হবে, হোমিওপ্যাথী নাকি হারবাল। দয়া করে জানাবেন।
3126 views

4 Answers

ত্বকের মধ্যকার মেলানোসাইট কোষ থেকে মেলানিন নামে এক ধরনের রঙ বের হয়। এই রঙই ত্বকের স্বাভাবিক রঙে ভারাসম্য রক্ষা করে। আর রঙের ক্রিয়াকলাপে বাধা সৃষ্টি হলে বা ভারসাম্যের অভাব ঘটলেই শুরু হয় শ্বেতী। একাশোজনের মধ্যে ত্রিশজনের ক্ষেত্রে শ্বেতী আসে বংশগত ধারায়। পিতৃকুল বা মাতৃকুলের কারও না কারও থেকে জিনের প্রভাবে। বাকি ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে শ্বেতীর বিদঘুটে সাদা দাগ ছড়াতে থাকে একেবারেই নিজস্ব নিয়মে। যার মূলে রয়েছে এই মেলানিন রঙের অভাব বা পাগলানো। আসল কথা শ্বেতী ব্যাপারটা যে কী এটা অনেকেই জানেন না। জানেন না যে এরোগের নিরাময় সম্ভব, এটা কোনও চোঁয়াচে রোগ নয়। ফলে শ্বেতীর জন্য ভেঙ্গেঁ যায় প্রেম-বিয়ে, এমনিক চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে হেনস্থা হতে হয়। আছে আরও রকমারি সামাজিক চাপ। আজকের শিক্ষিত আধুনিক অনেক যুবকও শ্বেতীয় নাম শুনে ভূলে যেতে চায় তার ভাবী স্ত্রীকেও। তার সন্বন্ধের বিয়ে নয়, প্রেমের বিয়ে পর্যন্ত। এ রোগ সন্বন্ধে অজ্ঞ মানুষজনের জন্যই কিন্তু শ্বেতীরোগগ্রস্তরা অপমানের শিকার হয়। শ্বেতী কোথায় কোথায় হয় ঃ মুখমন্ডল, কনুই, বক্ষতেশ, এই সব জায়গাতেই প্রথমে শ্বেতী হতে আরম্ভ করে। কখনও বা শ্বেতীর সাদা দাগ ছড়াতে আরম্ভ করে চোখের পাশ দিয়ে, নাকের দু’পাশে বা ঠোঁটের কোনে-বা ওপর দিয়ে। কিছু ক্ষেত্রে শ্বেতী একটি বিশেষ জায়গার কেন্দ্রীভুক্ত হয়ে থাকে, ছড়ায় না বিশেষ। কখনও বা তা মুখ, বুক, হাতে ছড়িয়ে পড়ে এমনভাবে যে বুঝাই যায় না। এক সময় গায়ের রঙ আসলে কী ছিল-ফরসা না উজ্জল শ্যামবর্ণ,-না কালো। অবশ্যই এই দ্বিতীয় ধরণের শ্বেতীর দাগ মানুষকে শ্রীহীন করে দেয়। শ্বেতী কোন বয়সে বেশী হয় ঃ ৫০ শতাংশ শ্বেতী ধরা পড়ে বয়স বছর দশকের কাছাকাছি এসে। তবে মনে রাখতে হবে সদ্যোজাত শিশুর কিন্তু শ্বেতী একেবারেই ধরা পড়েনা। বাকিদের শ্বেতী হয় বয়স দশ পেরিয়ে গিয়ে, জীবনের যে কোন সময়। যৌবনে প্রৌঢ়ত্বে বা বার্ধক্যে। আমাদের দেশের ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ শ্বেতীর কবলে পড়েন এবং চিকিৎসার সুযোগ পান না অনেকেই। জীবন বিষময় হয়ে ওঠে তাদের। হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান ঃ যত অল্প বয়সে শ্বেতীর চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই ভাল। চিকিৎসক হিসেবে পরামর্শ-একটাই, শ্বেতী যদি সারিয়ে তুলতে চান তাহলে গড়িমসি করে লাভ নেই। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অভিশপ্ত সাদা রঙ ভয়া বহভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগেই শুরু করা উচিত জীবনের নতুন দৌড়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সকাল বেলাকার রোদ লাগাতে হবে শ্বেতী আক্রান্ত জায়গায়। ডায়াবেটিস, হাইপার থাইরয়েড় এসব যাদের আছে তাদের ক্ষেত্রে শ্বেতী হওয়ার প্রবনতা বেশি। সুগার এবং থাইরডকে ওষুধ দিয়ে স্বাভাবিকস্তরে এনে শ্বেতীর চিকিৎসা শুরু করা দরকার। শ্বেতীতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে ওষুধ বেশি ব্যবহৃত হয় তার নাম নি¤েœ সংক্ষেপে উল্লেখ্য করা হল। (১) আর্সেনিক সালফ্ ফ্লেভাম, (২) অয়েল বোচি উল্লেখযোগ্য। তার পরেও চিকিৎসকের পরামর্শা মত ওষুধ খাবেন। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ ডা: জাকির হোসেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম।

3126 views

শ্বেতী হল এব ধরনের বংশগত রোগ। জিনের পরিবর্তনের ফলেই এই রোগ হয়। উদ্ভিদ, জীবজন্তু, পাখি এবং মানুষ সবার মধ্যেই এই রোগটি দেখা যায়। চোখ, ত্বক, পালক এবং চুলে হলুদ, লাল, বাদামি অথবা কালো রঞ্জক পদার্থের অনুপিস্থিতির কারণেই ধবল রোগ হয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে এই রোগ হয় মেলানিন নামক এক প্রকার গাঢ় বাদামি রঞ্জকের অভাবে। সাধারণত ত্বক, চুল এবং চোখে এই মেলানিন থাকে। শাদা গোলাকৃতি ছোট ছোট বিন্দুতে অথবা যেকোনো অঙ্গের সীমিত জায়গায় অথবা সম্পূর্ণ শরীরেই শ্বেতী হতে পারে।

আপনি কোন চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ

 ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

3126 views

ধবল রোগ মানে শরীরের অংশ  বা অংশবিশেষ সাদা হয়ে যাওযা  ।এটা শরীরের অভ্যন্তরীণ মেটাবোলিজম এর সমস্যার কারনে হয়, আর এটা নিয়ন্ত্রন করে একটা ডিফেক্টিভ  জিন ,।এটা একটা বংশগত রোগ,তবে ছোঁয়াচে নয়।এর চিকিৎসা আছে সেটা সবার জন্য একই হয় না, তাই চর্ম ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসা নেওয়াই ভাল।

3126 views

হোমিও হারবাল কোনটাই কাজে আসবেনা।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিকভাবে শনাক্তকৃত শ্বেতী রোগের কার্যকর চিকিৎসা আছে। যেমন-মেডিকেল থেরাপি, ফটোথেরাপি, লেজার থেরাপি, কসমেটিক সার্জারি ইত্যাদি। রোগ ও রোগীর অবস্থাভেদে চিকিৎসা নির্বাচন করা হয়। 

সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে শ্বেত রোগ সারিয়ে তোলা সম্ভব। এর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে শ্বেতের বিস্তৃতি ও স্থানের ওপর। শ্বেত প্রাথমিক স্তরে থাকলে রোগীর বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার কোর্টিকো স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম লাগাতে হবে। ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

নেওয়াই উত্তম।

3126 views

Related Questions

ধবল বা শেতী?
2 Answers 2837 Views