1 Answers
থ্যালাসেমিয়া কনটেন্টটিতে থ্যালাসেমিয়া কী, লক্ষণ ও উপসর্গ, চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, জীবনযাপন পদ্ধতি, প্রতিরোধ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্ত রোগ। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম হলে থ্যালাসেমিয়া দেখা দেয়। থ্যালাসেমিয়া থেকে মারাত্মক রক্ত শূণ্যতা দেখা দিতে পারে।
থ্যালাসেমিয়া কি
থ্যালাসেমিয়া হলো বংশানুক্রমে পাওয়া রক্তের একটি সমস্যা বা রোগ। রক্তে যদি স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন কম থাকে তাহলে থ্যালসেমিয়া হয়। এর ফলে রক্তশুণ্যতাও দেখা দিতে পারে। থ্যালাসেমিয়া গুরুতর না হলে চিকিৎসার তেমন প্রয়োজন নেই। তবে থ্যালাসেমিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করলে রুগীর শরীরে নিয়মিত রক্ত দিতে হয়।
থ্যালাসেমিয়া হয়েছে কি করে বুঝবেন
থ্যালাসেমিয়ার ধরণ এবং এর তীব্রতার উপর নির্ভর করে এর উপসর্গগুলো ভিন্ন হয়ে থাকে।
থ্যালাসেমিয়া হলে সাধারণত: যেসব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা যায়:
অবসাদ অনুভব
দূর্বলতা
শ্বাসকষ্ট
মুখ-মন্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
অস্বস্তি
ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
মুখের হাড়ের বিকৃতি
ধীরগতিতে শারীরিক বৃদ্ধি
পেট বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া
গাঢ় রঙের প্রস্রাব
কখন ডাক্তার দেখাবেন
উপরোক্ত লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
কোথায় চিকিৎসা করাবেন
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
বিশেষায়িত সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল
কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে
রক্ত পরীক্ষা
গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা
কি ধরণের চিকিৎসা আছে
রোগের মাত্রা ও ধরণের উপর থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে।
মৃদু থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে
মৃদু থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ ও উপসর্গ খুবই কম থাকে এবং এক্ষেত্রে খুবই অল্প চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন-কোন অপারেশন হলে বা প্রসবের পর অথবা কোন সংক্রমণ হলে প্রয়োজন বোধে রক্ত দেয়া (Blood transfusion) লাগতে পারে।
মাঝারি থেকে মারাত্মক থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে
বছরে বেশ কয়েকবার প্রয়োজনবোধে ৮ থেকে ১০ বার রক্ত দেয়া লাগতে পারে
কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (Bone Marrow transplant) করার প্রয়োজন হতে পারে
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ ( আয়রণ ও ফলিক এসিড) ও পথ্য সেবন করা
জীবন-যাপন পদ্ধতি
ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়া আয়রণযুক্ত ঔষধ, ভিটামিন বা অন্যকোন ঔষধ খাওয়া যাবে না
সুষম ও পুষ্টিকর খাবার বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, জিংক, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে
সংক্রমণ এড়াবার জন্য বারবার হাত ধুতে হবে এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকতে হবে
এছাড়া সংক্রমণ এড়াবার জন্য টিকা নিতে হবে
প্রতিরোধ
যদি আপনার, আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের, স্ত্রীর ও স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের কারো থ্যালাসেমিয়া রোগের ইতিহাস থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
গর্ভধারণ করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্রঃ জাতীয় ই তথ্য কোষ