1 Answers
রাতের ঘুম দিনে ঘুমানো এটি আমাদের শরীরের বিল্ট-ইন ফাংশনের একদম উলটো একটি বিষয়।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দিনে ঘুমানো এবং রাতে জেগে থাকা বিষয়টি কেনো আমাদের শরীর গ্রহণ করতে পারেনা তার সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে-
১. আমরা সবাই ক্রোমোজোম সম্পর্কে জানি। একে বংশগতির ধারক ও বাহক বলে। একটি প্রাণী দিবাচর হবে নাকি নিশাচর হবে সে বৈশিষ্ট্যও এটি ধারণ করে। মানুষ নিশাচর প্রাণী নয়, রাতে না ঘুমিয়ে আপনি আপনার একটি বংশগতীয় ধারা বদলে ফেলছেন যা মস্তিষ্ক স্বাভাবিক ভাবে নিবেনা। আর মস্তিষ্ক কোনোকিছু অস্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করলে সে আপনাকে প্রশান্তি দিয়ে পুরষ্কৃত করবেনা। সর্বদাই malfunctioned মেশিনের মতো আপনি আপনার কাজকর্মের ছন্দ হারিয়ে ফেলবেন। অবশ্য আমাদের শরীর পারিপার্শ্বিকের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষ বলে এক পর্যায়ে সমস্যাগুলো কমে আসবে। কিন্তু ততদিনে অনেকেই সুস্থ-সবল থাকেননা।
২. জন্মের পর থেকে আমাদের শরীরে রাতের বেলায় পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসৃত হয় যা ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং দিনের বেলায় এড্রেনাল গ্রন্থি থেকে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল নিঃসৃত হয় যা আমাদের জাগিয়ে রাখার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে।
মেলাটোনিন এবং কর্টিসোল আবার পরষ্পর বিরোধী হরমোন, এগুলোর একটি অপরটিকে প্রশমিত করে। এই দিন-রাতের ছন্দ মেনে মস্তিষ্ক হরমোন নিঃসরণ করার সংকেত পাঠায় (একই কারণে সকালবেলায় টেস্টোস্টেরণের মাত্রা বেশি থাকে)।
আপনি নিজের রুটিন উলটো করে ফেললেও মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিক নিজ ছন্দ হারাতে পারেনা। হরমোন নিঃসরণ একটি আবশ্যিক বিল্ট-ইন ফাংশন, এটি পরিবর্তীত হওয়া সহজ বিষয় নয়।
এছাড়াও বেশকিছু রিসার্চে দেখা গেছে প্রাকৃতিক আলোতে কাজ না করলে শরীর সহজেই দুর্বল হয়ে পড়ে। রাতের শিফটে কাজ করা লোকেদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে এবং তাদের আয়ুষ্কাল স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
এক কথায় রাতে বদলে দিনে ঘুমানোর বিষয়টা বেস ছাড়া বিল্ডিং তৈরির মতো। আপনি প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে পারবেন কিন্তু শারীরিক ও মানসিক শক্তি সঠিকভাবে রিস্টোর করতে পারবেননা।
4476 views
Answered
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy