3 Answers
ভাল ঘুম স্মৃতিশক্তির পাহারাদার হিসেবে কাজ করে!
ঘুমের অভাব আপনার মস্তিষ্ককে স্থবির করে দেয়। অনিয়মিত, অতিরিক্ত বা প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাড়ায়। তাই, আপনি যদি আপনার স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে চান, তাহলে নিয়ম করে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান!
পুষ্টিকর খাবার খান।
কী ভাবছেন? স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার সাথে পুষ্টিকর খাবারের সম্পর্ক কোথায়, তাইতো? হ্যা, একটা ব্যাপার তো আছেই; শরীর ভাল থাকলে আপনার মন মানসিকতাও ভাল থাকে। আর বিশেষ কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আপনার স্মৃতিশক্তির বিকাশে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এই খাবারগুলো হল- নারকেল তেল, শিমের বিচি, ব্রকলি, ডার্ক চকলেট, হরেক রকম বাদাম, বাঁধাকপি, পালং শাক, সূর্যমুখীর বীজ, টমেটো ইত্যাদি।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
শরীর ও মনে আড়ষ্টতা থাকলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হওয়ার পরিবর্তে আরও নষ্ট হয়। তাই নিজেকে ঝরঝরে রাখতে রোজ নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম মানেই শারীরিক কসরত করতে হবে তা কিন্তু নয়। ভোরের স্নিগ্ধ হাওয়ায় একটু ঘুরে আসতে পারেন। বিকেলের হালকা রোদে একটু বেড়িয়ে আসতে পারেন আশপাশ থেকে। এ ধরনের হালকা ব্যায়াম আপনার মনকে চাঙ্গা রাখবে; সেই সাথে স্মৃতিশক্তিকে করবে ধারালো।
নিজের স্মৃতিশক্তির উপর বিশ্বাস রাখুন।
আপনি যদি প্রথমেই মনে করে রাখেন “আমার পক্ষে এতো কিছু মনে রাখা সম্ভব না”, তাহলে কিন্তু আপনি পিছিয়ে পড়বেন। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার মূল কথা হল, নিজের উপর আস্থা রাখা। আপনি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে আপনার স্মৃতিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে। এজন্যে মেডিটেশন করতে পারেন। মেডিটেশন হচ্ছে মনের ব্যায়াম। নীরবে কোথাও বসে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন মনোযোগ, সচেতনতা ও সৃজনশীলতা বাড়ায়। মনের জট খুলে যায়, হতাশা ও নেতিবাচকতা দূর হয় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার গেইম খেলুন
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এমন অনেক খেলা আছে।রুবিক’স কিউব, সুডোকু, ক্রসওয়ার্ডস, পাজল, ক্রিমিনাল কেইস, ওয়ার্ড কানেক্টিং, ওয়ার্ড,মেমরাইজিং ইত্যাদি বেশ বিখ্যাত কিছু ‘ব্রেন গেইম’ যা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ঘরোয়া ২ উপায় ১. কাঠবাদাম কাঠবাদাম একটি চমৎকার আয়ুর্বেদিক উপাদান। এটি স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের জন্যও ভালো। যা করতে হবে - ৫ থেকে ১০টি কাঠবাদাম সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। - পরের দিন সকালে খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং একে গুঁড়া করুন। - এক গ্লাস দুধের মধ্যে এই গুঁড়া মিশিয়ে ফুটান। - স্বাদ বাড়ানোর জন্য সামান্য চিনি বা মধু মেশাতে পারেন। - ৩০ থেকে ৪০ দিন এটি প্রতিদিন খান। ২. মধু ও দারুচিনি মধু ও দারুচিনি স্নায়ুকে শিথিল করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। গবেষণায় বলা হয়, কেবল দারুচিনি একটু নাকের কাছে নিয়ে শুঁকলেও স্মৃতিশক্তি ভালো হয়, এতে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বাড়ে। অনেকে এও বলেন, ঘুমের আগে মধু খেলে মানসিক চাপ কমে; ঘুমেও সাহায্য হয়। এটি স্মৃতি একত্রীকরণে ভূমিকা রাখে। যা করতে হবে - এক চা চামচ কাঁচা মধুর মধ্যে এক চিমটি দারুচিনি মেশান। - কয়েক মাস ধরে প্রতি রাতে এটি খান।
পাতা কপি ও পালং শাক:
পালং শাক ও পাতা কপিতে উচ্চ
মাত্রায় ভিটামিন কে এবং বিটা
ক্যারোটিন থাকে। যা পেশী শক্তি
ও স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য
করে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা
নিয়োমিত পাতা কপি বা পালং
শাক খান তাদের স্মৃতি শক্তি যারা
খায় না তাদের চেয়ে অনেক
বেশি।
সামুদ্রিক মাছ:
সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান
থাকে যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা
বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
মস্তিষ্কে থাকা ফ্যাটি এসিডের
৪০% হচ্ছে ডি এইচ এ, যা সামুদ্রিক
মাছের তেলে পাওয়া যায়
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হিসেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওমেগা-৩
ফ্যাটি অ্যাসিড ব্রেনের বিভিন্ন
কোষের মধ্যে সংবেদন আদান-প্রদান
বাড়িয়ে দেয়।
বাদাম এবং বীজ দানা:
বাদাম এবং বীজ দানা জাতীয়
খাবারে রয়েছে ভিটামিন ই, ও
একটি এন্টি-অক্সিডেন্ট এর উৎস।
বাদাম এবং বীজ দানার এ উপাদান
সমূহ স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য
করে। এছাড়া আমন্ড বাদামও
ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে
ভূমিকা রাখে।