2 Answers
তার প্রেমেতে জুলেখা বিবি ই ই------ গো ও---।' আমরা ছোটবেলা হতেই এই গানটা শুনে আসছি। এই প্রেম নিয়ে গ্রামে বাউলদের অনেক কেচ্ছা-কাহিনীও শুনেছি। ছোটবেলায় শুনতে খুব ভাল লাগত। বিশ্বাস করতাম তাদের প্রেম কাহিনী। আসলেই কি হযরত ই্উসুফ (আঃ) জুলেখা বিবির সাথে প্রেম করেছিলেন? না-কি একজন নবী(আঃ) কে নিয়ে মিথ্যা কাহিনী বানিয়ে শত শত বৎসর ধরে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে? কোন ধর্মীয় কাহিনী শোনার পর আমাদের উচিত সেটা অবশ্যই যাচাই বাছাই করে বিশ্বাস করা। আসুন দেখি পবিত্র কুরআন দিয়ে পরীক্ষা করি। ২৩) আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, ঐ মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং দরজাসমূহ বন্ধ করে দিল। সে মহিলা বললঃ শুন! তোমাকে বলছি, এদিকে আস, সে বললঃ আল্লাহ রক্ষা করুন; তোমার স্বামী আমার মালিক। তিনি আমাকে সযত্নে থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমা লংঘনকারীগণ সফল হয় না। ২৪) নিশ্চয় মহিলা তার বিষয়ে চিন্তা করেছিল এবং সেও মহিলার বিষয়ে চিন্তা করত। যদি না সে স্বীয় পালনকর্তার মহিমা অবলোকন করত। এমনিবাবে হয়েছে, যাতে আমি তার কাছ থেকে মন্দ বিষয় ও নিলজ্জ বিষয় সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার মনোনীত বান্দাদের একজন। ২৫) তারা উভয়ে ছুটে দরজার দিকে গেল এবং মহিলা ইউসুফের জামা পিছন দিক থেকে ছিঁড়ে ফেলল। উভয়ে মহিলার স্বামীকে দরজার কাছে পেল। মহিলা বললঃ যে ব্যক্তি তোমার পরিজনের সাথে কুকর্মের ইচ্ছা করে, তাকে কারাগারে পাঠানো অথবা অন্য কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কি শাস্তি হতে পারে? ২৬) ইউসুফ (আঃ) বললেন, সেই আমাকে আত্মসংবরণ না করতে ফুসলিয়েছে। মহিলার পরিবারে জনৈক সাক্ষী দিল যে, যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা সত্যবাদিনী এবং সে মিথ্যাবাদি। ২৭) এবং যদি তার জামা পেছনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা মিথ্যাবাদিনী এবং সে সত্যবাদী। ২৮) অতঃপর গৃহস্বামী যখন দেখল যে, তার জামা পেছন দিক থেকে ছিন্ন, তখন সে বলল, নিশ্চয় এটা তোমাদের ছলনা। নিঃসন্দেহে তোমাদের ছলনা খুবই মারাত্নক। ২৯) ইউসুফ এ প্রসঙগ ছাড়! আর হে নারী, এ পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর নিঃসন্দেহে তুমি-ই পাপাচারিনী। ৩২) মহিলা বললঃ এ ঐ ব্যক্তি, যার জন্যে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করছিলে। আমি ওরই মন জয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর আমি যা আদেশ দেই, সে যদি তা না করে, তবে অবশ্যই সে কারাগারে প্রেরিত হবে এবং লাঞ্চিত হবে। ৩৩) ইউসুফ বললঃ হে পালনকর্তা তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহবান করে, তার চাইতে আমি কারাগারই পছন্দ করি। যদি আপনি তাদের চক্রান্ত আমার উপর থেকে প্রতিহত না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব। ৩৪) অতঃপর তার পালনকর্তা তার দোয়া কবুল করে নিলেন। অতঃপর তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করলেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুরাঃ ইউসুফ) পাইলেন ? সুফীবাদি ও পীরতন্ত্রের মিথ্যা কিচ্চা কাহিনীর প্রমাণ !! তাই মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে" [সুরা হুজুরাত: ৬] আল্লাহর বাণীঃ "আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌঁছিয়েছি; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মকে অপছন্দকারী" [সুরা যূখরুফ: ৭৮]
”প্রেম কইরাছেন ইউসুফ নবী যার প্রেমে জুলেখা বিবি” এই গান শুনেনি খুব কম মানুষ ই আছে। এই গানের মধ্যে মোটামোটি প্রেমের একটা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এবং আমার বিশ্বাস শতকরা ৮০% মানুষ বিশ্বাস করে যে ইউসুফ নবী সত্যি সত্যি জুলেখার সাথে প্রেম করেছিলেন। সত্য কথা হলো এটি একটি জগন্যতম মিথ্যআরোপ করা হয়েছে ইউসুফ নবীর বিরুদ্ধে।
আসুন দেখি কোরআন কী বলে ইউসুফ নবী ও জুলেখা সম্বন্ধেঃ পবিত্র কোরআন শরীফের ১২ নং সূরা ইউসফের ৩ নং রূকুতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, যখন ইউসুফের ভাইয়েরা তাকে অন্ধকার কুপে ফেলে আসে তখন এক মহিলা পানি আনতে গেলে শিশু ইউসুফের চিৎকার শুনেন এবং কুপে বালতি ফেলে শিশু ইউসুফ কে আল্লাহর ইচ্ছায় উদ্ধার করেন এবং মিশরের এক ব্যাবসায়ীর কাছে তাকে বিক্রি করেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পরে যখন ইউসুফ প্রাপ্ত বয়স্ক হন তখন উক্ত ব্যাবসায়ীর স্ত্রী জুলেখা একদিন ঘরের দরজা সমূহ বন্ধ করে অসৎ উদ্দ্যেশে ইউসুফ কে কাছে ডাকলো এবং কু-প্রস্তাব দিলো। ইউসুফ তা সরাসরি প্রত্যাখান করে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইলেন। অতপর মহিলা তাকে জোর পূর্বক ধরতে চাইলে তিনি দরজার দিকে দৌড় দিলেন এবং জুলেখা ইউসুফের জামা’র পিছন দিকে ধরে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে জামা ছিঁড়ে যায়। অতপরঃ উভয়ই দরজার পাশে জুলেখার স্বামী কে দেখলেন। এবং জুলেখা নিজ ষড়যন্ত্র গোপন করে তার স্বামীকে বলল, কী শাস্তি হওয়া উচিত সেই ব্যাক্তির যে ব্যাক্তি তোমার স্ত্রীর সাথে অসৎ কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ইউসুফ বললেন এই মহিলাই আমাকে অশ্লীল কাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে চেয়েছিলো। এই সময় জুলেখার একজন নিকট আত্বীয় এসে বললেন ইউসুফের জামার তদন্ত করতে হবে। যদি তার জামা’র সামন দিক ছেঁড়া হয় তাহলে মহিলা সত্যবাদী আর যদি পিছন দিক ছেঁড়া হয় তাহলে বুঝতে হবে ইউসুফ সত্য কথা বলছে আর জুলেখা মিথ্যাবাদী। অতপরঃ ইউসুফের জামা তদন্ত করে দেখলেন পিছন দিকে ছেঁড়া। বিষয় বুঝতে পেরে জুলেখার স্বামী ইউসুফ কে বললেন তুমি এ ব্যাপার নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করো না আর স্ত্রী কে বললেন তোমরা নারীদের ছলনা বড় জগন্য, তুমি অপরাধী সুতুরাং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও।
মূলত এই রকম একের পর এক মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে আমাদের নবী রাসূলদের উপরে আর আমরা এর সত্যতা যাচাই বাঁচাই না করে বেকুবের মত বিশ্বাস করছি। সত্য জানুন সত্য প্রচার করুন তাহলেই জীবনে সাফল্য আসবে। আর সত্য জানতে এবং বুঝতে পবিত্র কোরআন শরীফ পড়া ছাড়া বিকল্প কিছু নাই। আমাদের সবাই কে আল্লাহ’তা’আলা কোরআন বুঝে শুনে পড়ার তৌফিক দান করুক। আমিন।
সার কথা আমরা প্রেম বলতে যা বুঝি তার কোন বৈধতা নেই ইসলামে।