3 Answers

প্রেম আর মানবতার কবি কাজী নজরুলের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ২৯ আগষ্ট। ১৯৭৬ সালের এই দিনে চির অভিমানী বাংলাদেশের জাতীয় কবি ৭৭ বছর বয়সে ঢাকায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। নজরুল শুধু প্রেম আর মানবতার কবিই নয়, তিনি বাংলা কাব্য জগতের এক উচ্চ আসনে আসীন হন তাঁর 'বিদ্রোহী' কবিতা লিখে "আমি চির বিদ্রোহী বীর, বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির" - এর মাধ্যমে সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান কবি। কবির ছেলেবেলা কেটেছে দারুন কষ্টের মধ্যে,  মাত্র ১০ বছর বয়সেই পরিবারের ভার কাঁধে নিতে হয় তাঁকে। রুটির দোকানে কাজ শুরু করেন কবি। তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল ভীষণ অনিশ্চয়তার। ক্ষণজন্মা এই বিপ্লবী মানুষটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুম্লিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান নজরুলের পড়ালেখার শুরু মক্তবে। কিন্তু বাবার মৃতু্যর পর দারিদ্র্যের কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশিদূর এগোয়নি। ১৫ বছর বয়সে নজরুল তাঁর এক চাচার বাড়ীর, ময়মশিংহ জেলার ত্রিশাল মহুকুমার দরিরামপুর স্কুলে এক বছর লেখাপড়া করেন।

 image

কবি নজরুল এক আলোর ধুমকেতু হয়ে আজও পথ দেখিয়ে চলেছেন বাঙালীকে। তাঁর কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে বিপুল সমৃদ্ধি। বৈচিত্র্যময় বাংলা গানের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডারটির স্রষ্টা তিনি। অসাম্প্রদায়িক এই কবি সকল ধর্মের বাঙালীর চিন্তা-মনন ও অনুভূতির জগতে নানাভাবে নাড়া দিয়েছেন। শুধু কবি খ্যাতিতে নয়,  তিনি তাঁর কবিতায় মানবতার বাণী প্রচার করেন। "গাহি সাম্যের গান - যেখানে আসিয়া এক হ'য়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান। যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রীশ্চান।"

১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সাড়াজাগানো কবিতা সংকলন 'অগি্নবীণা'। এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা কাব্যের ভুবনে পালাবদল ঘটাতে সৰম হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ নিঃশেষ হয়ে যায়। পরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও কয়েকটি নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। 'বিদ্রোহী', 'কামাল পাশা' ছাড়াও এই কাব্যগ্রন্থের 'প্রলয়োলস্নাস', 'আগমনী', 'খেয়াপারের তরণী', 'শাত-ইল্-আরব' কবিতাগুলো দারুণ হৈচৈ ফেলে দেয় পুরো ভারতবর্ষে সে সময়।

গদ্য রচনার খেত্রেও স্বতন্ত্র চিন্তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন নজরুল। তাঁর প্রথম গদ্য রচনা 'বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী' ১৯১৯ সালে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সৈনিক থাকা অবস্থায় (প্রথম মহাযূদ্ধের সময় ১৯১৭তে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন) করাচী সেনানিবাসে বসে এটি রচনা করেন তিনি। এখান থেকেই তার সাহিত্যিক জীবনের মূল সূচনা ঘটেছিল বলে ধারণা করা হয়। এখানে বসেই তিনি লিখেছেন "হেনা", "ব্যথার দান"  'মেহের নেগার' ও 'ঘুমের ঘোরে' গল্পগুলো। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় নজরুলের গল্প সংকলন 'ব্যথার দান'। একই বছর প্রকাশিত হয় প্রবন্ধ সংকলন 'যুগবাণী'।

তবে নজরুলের সৃষ্টির অত্যনত্ম গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছে সঙ্গীত। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গান রচনা করেন তিনি। সুর বৈচিত্র্যে ভরপুর এসব গান বাংলা সঙ্গীতকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে। তাঁর সৃষ্ট রাগ বিস্মিত করে বড় বড় ওসত্মাদদের।

কাজী নজরুল ইসলাম নিজের সকল সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রেমের কথা বলেছেন। মানবতার কথা বলেছেন। সাম্যের কবি নারীর প্রতি উপেক্ষা কখনও মেনে নেননি। সমাজের নিচু শ্রেণীর মানুষদের কাছে টেনে নিয়েছেন। ধার্মিক মুসলিম সমাজ ও অবহেলিত জনগণের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক থাকলেও সামপ্রদায়িকতার নিন্দা করেছেন তীব্র ভাষায়। স্বার্থান্ধ মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এই কবি তৎকালীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে অসংখ্যবার জেল খেটেছেন। জেলে বসেই তিনি লিখেছেন বিখ্যাত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী'। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এভাবেই দুর্দম গতিতে এগিয়ে চলেছেন তিনি। হয়ে উঠেছেন আজকের নজরুল।তিনি আজ নেই কিন্তু বেঁচে আছে তাঁর অমর কীর্তি।image

3281 views
 আপনার জন্য বানালাম । আশা করি ভালো লাগবে । আমি কোন প্রফেশনাল ডিজাইনার নই । টুকটাক চলে এই রকম জানি আর কি । image
3281 views

((আজ আমি একটি তথ্য দিব।। তা অনেকে জানেন অথবা অনেকে জানেন না।।প্রতিটি দেশের রয়েছে জাতীয় সঙ্গীত।। যেমন, আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।। কিন্তু আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।। কিন্তু তার কোন সঙ্গীতকে জাতীয় হিসেবে স্কৃতি দেয়া হল না? এটা দ্বারা আমি রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্বে বলছি না।। আমি তারপরও ধন্য তা বলতে চাচ্ছি কারন, কাজী নজরুলের সঙ্গীত বাংলাদেশে জাতীয় না হলেও তুরস্কের জাতীয় সঙ্গীত কাজী নজরুলের লেখা।।)))এইটুকু লেখা পোস্ট করে দিন।প্রয়জনে এডিট করে নিবেন।।

3281 views

Related Questions