আমার সরির অনেক ঘামে?
5 Answers
মানুষ কাজ করলে একটু ঘামবেই, তবে এটা অসুখ কিনা সেটা বুঝার জন্য আপনার বয়স,ওজন,উচ্চতা,থাইরয়েড ফাংশন এসব জানা দরকার। যদি সমস্যাটি বেশী হয় তাহলে প্রথমে ভিটামিন-ই খেয়ে দেখুন, ভালো না হলে চর্ম রোগের ডাক্তারের সাথে দেখা করুন।
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া অসুস্থতার লক্ষণ কি না : অতিরিক্ত ঘাম হওয়াটা অত্যন্ত বিরক্তিকর। বাইরে বের হওয়ার পর জামাকাপড় ভিজে একাকার। তবে এটি ক্ষতিকর তো নয়ই, বরং এই গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম তাপ ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে আপনাকে প্রচণ্ড তাপমাত্রার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করছে। আসলে লোমকূপের গোড়ায় লুকিয়ে থাকা ঘর্মগ্রন্থি আমাদের দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করার কাজটি গোপনে করে যাচ্ছে। এ ছাড়া শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম, জ্বর, ব্যথা বা ধুশ্চিন্তায় দেহের সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত হওয়ার মাধ্যমে প্রচুর ঘাম সৃষ্টি করে। এ সবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া কোনো সমস্যা বা রোগের উপসর্গও হতে পারে। নারীরা গর্ভাবস্থায় বেশি ঘামেন। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নারীরা হঠাৎ গরমে অস্থির হন, ঘাম হয়, সঙ্গে বুক ধড়ফড়ও করতে পারে। এই বিশেষ সমস্যার নাম হট ফ্লাশ। এমনিতে সেরে না গেলেও এর জন্য হরমোন থেরাপি লাগতে পারে। থাইরয়েডের বা গ্রোথ হরমোনজনিত জটিলতায় অনেক ঘাম হতে পারে। রাতে ঘাম হয় যক্ষ্মা রোগীদেরও, যখন জ্বর ছেড়ে যায়। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঘাম হতে পারে। ডায়াবেটিক রোগী যারা ওষুধ খাচ্ছেন বা ইনসুলিন নিচ্ছেন, তাঁদের রক্তের শর্করা হঠাৎ কমে গেলে ঘামতে পারেন। সঙ্গে বুক ধড়ফড় করা, অস্থির লাগা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা উল্টাপাল্টা কথা বলতে পারেন। এটি একটি বিপৎসংকেত। সঙ্গে সঙ্গে চিনির সরবত বা মিষ্টি কিছু খেয়ে নিলে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ঘামের সঙ্গে বুকে চাপ বা ব্যথা হার্ট অ্যাটাকেরও লক্ষণ হতে পারে। লক্ষ্য রাখুন: কেবল রাতে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে কি না, কেবল এক পাশে বেশি হচ্ছে কি না। বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড়ানি, কাশি, জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ আছে কি না। ডায়াবেটিক রোগী হলে খেতে অনেক দেরি হয়ে গেছে কি না। সাধারণ গরম আবহাওয়ায় অনেক ঘেমে গেলে শরীর যাতে পানি ও লবণশূন্যতায় আক্রান্ত না হয়, সে জন্য এ সময় প্রচুর পানি খান। প্রয়োজনে লবণ পানি বা স্যালাইন খান। l মেডিসিন বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল। অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণে যা যা করতে পারেন : ভিনিগার ও তেলের সংমিশ্রণ ১২০ মিলি লিটার লাল ভিনেগার ও ৩০ ফোঁটা তিলের তেল/অলিভ অয়েল/পিপারমিন্ট অয়েল একসাথে ভালো করে মিশিয়ে একটি বোতলে মুখ শক্ত করে লাগিয়ে রাখুন। ১ সপ্তাহ বোতলটি না খুলে ঠাণ্ডা, শুষ্ক ও অন্ধকার স্থানে রেখে দিন যাতে মিশ্রণটি একসাথে মিশে যায়। এরপর ১ সপ্তাহ পর প্রতিবার গোসল স্নান করার সময় স্নানের জলে ৩ টেবিল চামচ এই মিশ্রণটি মিশিয়ে নিন। অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার হাত থেকে আপনি অনায়াসে মুক্তি পাবেন। আপেল সিডার ভিনিগার ও বেকিং সোডার সংমিশ্রণ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার নিয়ে এতে ১/৮ চা চামচ বেকিং সোডা ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দিনে ১ বার করে পান করুন, যদি ঘেমে যাওয়ার সমস্যা অতিরিক্ত হয় তাহলে দিনে ৩ বার পান করতে পারবেন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পান করবেন না। ভালো ফল পাবেন। বাথসল্ট আধা কাপ বোরাক্স, ১ কাপ সি সল্ট, ১ কাপ বেকিং সোডা এবং ১ কাপ তিলের তেল/অলিভ অয়েল/পিপারমিন্ট অয়েল একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন। প্রতিবার স্নানের সময় ২ বালতি জলে মিশ্রণটির ১/৪ কাপ পরিমাণে মিশিয়ে স্নান করুন। এছাড়াও যদি পারেন তাহলে বাথটাবে গরম জলে এই মিশ্রণটি মিশিয়ে ২০ মিনিট গা ডুবিয়ে থাকুন। এতেও দারুন ফল পাবেন।
একজন মানুষের বিভিন্নকারনে অনেক ঘেমে একাকার হওয়ার লক্ষন দেখা যায়।আমি নিজের থেকে কিছু টিপস দিলাম যা আপনার কাজে লাগবে: ১. ঢিলেঢালা পোশাক পরা আঁটসাঁট পোশাকে শরীরে বাতাস লাগে না। যার ফলাফল অতিরিক্ত ঘাম। এই ঘমের কারণে দুর্গন্ধও যেন পিছু ছাড়ে না। তাই গরমের এই সময়টাতে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। এতে ঘামানোর আশঙ্কা কম থাকে। ২. সুতির পোশাক পরা সুতি গরমের সময় শরীরে সামঞ্জস্য বজায় রাখে। সুতির পোশাক পরলে শরীরে সহজে বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তাই গরমে সব সময় সুতি কাপড় পরার চেষ্টা করুন, যা আপনার ঘামের সমস্যার সমাধান করবে। ৩. ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করা ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক কোনো প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক ঠান্ডা থাকে। এর ফলে মুখ ও শরীর কম ঘামায়। তাই চেষ্টা করুন নিয়মিত ঘরে তৈরি প্যাক লাগানোর। এটি ঘাম থেকে আপনাকে রক্ষা করবে এবং ত্বক সুন্দরও করবে। ৪. ডিওডরেন্ট সঠিক সময়ে ব্যবহার করুন যাঁদের অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাঁরা যদি ডিওডরেন্ট ব্যবহার করেন তাহলে শরীরে অনেক বাজে দুর্গন্ধ হবে। ডিওডরেন্ট ব্যবহারের কারণে তাদের শরীরে ঘামের পরিমাণও বেড়ে যাবে। তাই পারলে রাতে ডিওডরেন্ট ব্যবহার করুন। সকালে শরীরের হালকা ঘ্রাণ থাকবে এবং কম ঘামাবেন। ৫. ক্রিম বা লোশন ব্যবহার না করা গরমে ক্রিম এবং বডি লোশন ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এগুলো শরীরে আরো বেশি ঘাম তৈরি করে। এ ধরনের প্রসাধনী যতটা কম ব্যবহার করবেন, তত কম ঘামাবেন। ৬. আইসপ্যাক বা আইস কিউব ব্যবহার করুন গরমে দিনের যেকোনো একটা সময় আইসপ্যাক দিয়ে পুরো শরীর ঠান্ডা করে নিতে পারেন। অথবা একটি আইসকিউব নিয়ে শরীরে ঘষতে পারেন। এতে শরীর ঠান্ডা হবে এবং ঘাম কম হবে। ৭. লবণ ব্যবহার করা লবণপানিতে গোসল করলে শরীরে ঘামের পরিমাণ কমে যায়। এমনকি শরীরের রোগ-জীবাণুও ধ্বংস হয়। তাই চেষ্টা করুন গোসলের পানিতে লবণ ব্যবহার করতে। এতে ঘাম সমস্যার সমাধান হবে খুব সহজেই। ৮. ফলের জুস খাওয়া ফলের জুস খেলে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে, যা ঘামকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রতিদিন খাবারের তালিকায় ফলের জুস রাখুন। এবং বাটার মিল্ক খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি শরীরে ঘামের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
ঘামতো দুই কারনে বেশী হয়। এক হলো বংশগত কারনে। আর দ্বিতীয়টি শাররীক দুর্বলতার কারনে। বংশগত কারন হলে কোন ভাবেই কমানো সম্ভব নয়। আর শাররীক দুর্বলতা কারনে হলে দ্রুত আমিষ ও পুষ্টিকর খাবার বেশী করে খেতে হবে। সাথে (এ টু জেড) ভিটামিন খেয়ে যেতে হবে দুর্বলতা না কমা পর্যন্ত।
ঘাম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি। গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে তা স্বাভাবিক রাখতে ঘাম হয়। এছাড়াও ঘামের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। গরমের দিনে ঘাম হওয়া অতি সাধারণ একটি বিষয়। তবে অতিরিক্ত ঘামের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘামের কারণ এবং এর বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার উপায় জানালেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, “মানুষের শরীরে অ্যাক্রিন ও অ্যাপোক্রিন গ্ল্যান্ড নামক দুইধরনের ঘামগ্রন্থি থাকে। রোদের কারণে শরীরের তামপাত্রা বেড়ে যায়। তাই তাপমাত্রা স্বাভাবিক করে আনার জন্য ঘাম হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান বের করে দেওয়ার মাধ্যমে শরীরের ‘প্রটেকটিভ মেকানিজম’ হিসেবেও কাজ করে ঘাম।” ঘাম হওয়ার আরও কারণ সম্পর্কে ডা. কামরুল হাসান বলেন, “গরম ছাড়াও পরিশ্রম, উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা, ভয়, রাগ ইত্যাদি কারণেও ঘাম হতে পারে। ঠাণ্ডা পরিবেশেও অনেকের হাত ও পায়ের তালু ঘামার সমস্যা দেখা যায়। এ ধরণের রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই থাইরয়েড গ্রন্থি কিংবা বিভিন্ন হরমোনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।” “নিউরোলজিকাল ও ঘুমের ওষুধ সেবন করলে কিংবা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণেও ঘাম হতে পারে।” বলেন ডা. কামরুল। ঘামের অপকারীতা সম্পর্কে তিনি জানান, শরীরে ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হল ঘাম। ঘামাচি, চুলকানি, ব্রণ ইত্যাদি তো আছেই। তাছাড়া শরীরের ক্ষতস্থানেও ঘামের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, ফলে পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘামে ভেজা পোশাক দীর্ঘ সময় পরে থাকার কারণে ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শরীর ঘামে ভেজা থাকলে ত্বকে ধুলাবালি আটকে থাকার পরিমাণও বেড়ে যায়। ঘামের কিছু উপকারী দিকও আছে। এ সম্পর্কে ডা. কামরুল হাসান বলেন, “ঘামে শরীর ভেজা থাকার কারণে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে যায়। পাশাপাশি শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ বের করে দিয়ে লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে। পরিষ্কার রাখে ত্বকের লোপকুপগুলো।” অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণে করণীয় অতিরিক্ত ঘাম হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে। ফলের শরবত, গ্লুকোজ, স্যালাইন ইত্যাদি পান করাও বেশ উপকারী। তাছাড়া বাইরের গরম থেকে ঘরে ফিরে ঠাণ্ডা পানি না খেয়ে স্যালাইন বা গ্লুকোজ খাওয়ার পরামর্শ দিলেন ডা. কামরুল হাসান। চা-কফি, ভাজাপোড়া-জাতীয় খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো। গরমের মৌসুমে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে একাধিকবার গোসল করা যেতে পারে। তবে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার ভয় থাকলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নেওয়া যেতে পারে। গরমে বাইরে থেকে ফিরেই অতিরিক্ত ঠাণ্ডা স্থানে বসা, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানীয় পান করা বা গোসল না করার পরামর্শ দেন ডা. কামরুল। তিনি বলেন, “বাইরে থেকে এসে কিছুটা সময় জিরিয়ে নিতে হবে। এতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পাবে। অন্যথায় ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে।” এছাড়া ঘামে ভেজা জামাকাপড় বেশিক্ষন পরে থাকা উচিত নয়। গরমের দিনে হালকা রংয়ের পোশাক বেশি আরামদায়ক। ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে পারফিউম ব্যবহার করা যেতে পারে। আর ঘামাচি থেকে বাঁচতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।