মেধা শক্তি বাড়ার জন্ন কি দরকার
3423 views

3 Answers

নীচের টিপসগুলি অনুস্বরন করুনঃ

১। ব্যায়াম করুন আর শরীরকে রাখুন সচল:

ব্যায়াম শুধু আপনার শরীরকেই সচল করে না, এটি আপনার মস্তিষ্ককেও সচল রাখে। স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজন আপনার ব্রেইনের জন্যও ক্ষতিকর। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে কিংবা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সচল না থাকলে রক্তবাহী নালীগুলো চর্বি জমে। ফলে স্বাভাবিক রক্তচলাচল ব্যহত হয়। মস্তিষ্কে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবারাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মস্তিষ্কের কোষগুলোও। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করুন, সচল রাখুন আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো।

২। মানসিক চাপ কমিয়ে আনুন, বিষন্নতা দূর করুন:

রাগ, ক্ষোভ বা উদ্বেগ আপনার ব্রেনকে কিছু সময়ের জন্য স্থবির করে দেয়, যা আপনার স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। মানসিক চাপের মধ্যে বিষন্নতা সবচেয়ে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। বিষণ্নতা আপনার মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা ক্ষমিয়ে ফেলে এবং রক্তে করটিসলের লেভেল বাড়িয়ে দেয়। করটিসেলের লেভেল বেড়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়, বিশেষ করে হিপ্পোক্যাম্পাসের। যেখানে শর্টটার্ম মেমোরি সংরক্ষিত থাকে। তাই বিষণ্নতা সহ সকল মানসিক চাপ যতদূর সম্ভব কমিয়ে ফেলুন।

৩। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চত করুন:

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক আট ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। একটা চমৎকার ঘুম আপনার মস্তিষ্ককে অধিক কার্যকরী করে তোলে। ঘুমের সময় সাম্প্রতিক সময়ের তথ্যগুলোকে মস্তিষ্কসংরক্ষণ করতে থাকে। আর ঘুমকে বলা হয় মেমোরি চার্জার। ঘুমের সময় আপনার মেমোরি পরবর্তী স্মৃতি ধরার জন্য প্রস্তুত হয়। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পারেন।

৪। বিষয়গুলো লিখে রাখুন:

যে বিষয়গুলো স্মৃতিতে রাখতে চান তা লিখে ফেলার অভ্যাস করুন। একবার লেখা নাকি বিশবার পড়ার সমান। এটার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। লেখার সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তপ্রবাহের পরিমান বাড়ে। তাই লিখে রাখুন ডায়রিতে, ইমেইলে বা ব্যক্তিগত ব্লগে।

৫। গান শুনুন:

অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন- স্মৃতির সাথে গান শোনার কী সম্পর্ক? গবেষকরা দেখিয়েছেন কিছু সংগীত স্মৃতিশক্তি বাড়াতে উপকারি। ব্যাপারটা এই রকম: কোন ঘটনার সময় আপনি যদি কোন গান শুনেন তবে পুনরায় সেই গান শোনার সময় সেই ঘটনার আবহের স্মৃতি আপনার মস্তিষ্কে জেগে উঠবে।

৬। পুষ্টিকর খাবার খান:

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য অবশ্যই আপনাকে ভিটামিন যুক্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। তাজা ফলমূল, গাঢ় সবুজ শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, গমের রুটি প্রভৃতি প্রোটিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। পরিমান মতো বিশুদ্ধ পানি পান করুন। প্রচুর চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। বিশেষ করে বাসি-দূষিত খাবার খাবেন না। ওগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আর ধূমপান ও মাদক সেবন থেকে বিরত থাকুন। এগুলো আপনার মস্তিষ্কের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর।

৭। অন্যকে শেখান:

নিজে যা শিখতে চাচ্ছেন। তা একবার শিখে নিয়ে অন্যকে শেখান। আরজনকে শেখাতে গিয়ে দেখবেন আপনার জানার ঘাটতিগুলো ধরতে পারছেন। আবার চর্চাও হবে আরেক জনকে শেখানোর মাধ্যমে। নতুন কিছু বিষয়ে আপনার কোন চিন্তা আরেকজনের সাথে শেয়ারও করতে পারেন। তাহলে আপনার স্মৃতিতে তা স্থায়ী হবে। লোকটাকে দেখা মাত্রই বিষয়টি আপনার স্মৃতিতে আসবে।

3423 views

১. একটু হাঁটা সামান্য হেঁটে নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো তেমন মস্তিষ্কের জন্যও ভালো। এটি শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যও প্রয়োজনীয়। গবেষকরা বলছেন, ৪০ মিনিট করে সপ্তাহে চার দিন করে হেঁটে নেওয়া হতে পারে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায়। এটি মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যামপাস এলাকার আকার বৃদ্ধি করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। ২. কফি পান অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা যায় কফি মস্তিষ্ককে কোনো বিষয়ে মনোযোগী হতে ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রে ফিল্টার করা ব্ল্যাক কফি সবচেয়ে কার্যকর। তবে মনে রাখতে হবে দুধ ও চিনি বাদ দেওয়াই ভালো। ৩. হাসি হাসির মাধ্যমে মানুষের মানসিক চাপ কমে এবং বহু রোগের উপশম করে। গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র ২০ মিনিটের হাসি আপনার মস্তিষ্কের স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তি বাড়াবে। এ ক্ষেত্রে মজার কোনো ভিডিও দেখা, টিভিতে মজার অনুষ্ঠান দেখা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে নির্মল মুহূর্ত কাটানো খুবই কার্যকর হতে পারে। ৪. সংগীত গান-বাজনা, সংগীত ইত্যাদি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রোমের গবেষণায় দেখা গেছে, মোজার্ট শোনার সময় মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো ভালোভাবে কাজ করে। এতে নার্ভ সেল ও মস্তিষ্কের মধ্যে সংযোগ জোরালো হয় ও কোনো বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া মস্তিষ্কের স্মৃতি ধারণক্ষমতাও বেড়ে যায় এতে। সূত্র - কালেরক্ঠ।

3423 views

১। রবিবসন এর নিয়ম: মনোবিজ্ঞানী রবিবসন স্মৃতিকে উন্নত করার জন্য ‘survey Q-3r’ এর আবিষ্কার করেন। যার মানে হচ্ছে, Question=প্রশ্ন কর, Read= পড়, Recite= আবৃত্তি কর Review= পুনরায় স্মরণ কর। এটি মেনে চললে মানুষের স্মৃতি শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। ২। গভীর মনোযোগ: গভীর মনোযোগ হলো স্মৃতি উন্নত করার একটি কৌশল। যে কোনো বিষয়বস্তু গভীরভাবে মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করলে তা আয়ত্ব করা যে কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব। ৩। নিয়মিত অধ্যয়ন: নিয়মিত অধ্যয়ন করলে যেকোনো যে কোনো বিষয় সহজেই স্বরনযোগ্য হয়। ফলে স্মৃতি উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়। ৪। সম্পুর্ন ও অর্থপুর্ণ শিক্ষা: আসম্পুর্ণ শিক্ষা বিস্মৃতির অন্যতম কারণ। সম্পুর্ন ও অর্থপূর্ণ শিক্ষালাভের মাধ্যমে তাদের স্বরণ শক্তি (Memory Power) বাড়াতে পারেন। ৫। সংকল্প: কোনো কিছু শিক্ষা করার সংকল্প (Determination) নিলে তা সহজে আয়ত্বে আসে। ফলে স্মৃতি উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়। ৬। অনুশীলন: মনোবিজ্ঞানী ‘Stout’-এর মতে, ‘অনুশীলন এর মাধ্যমে স্মৃতি শক্তির উন্নইন ঘটে’। ৭। চিত্ত বিনোদন: চিত্ত বিনোদন যেমন-গান,খেলা, টিভি দেখা, ইন্টারনেট চালনা করা ইত্যাদি স্মৃতিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। কারণ একটানা কোনো কিছু করলে ক্লান্তি ও অবসাদ আসে যা বিস্মৃতি শক্তি (Forgetting power)- কে বাড়িয়ে দেয়। ৮। ধ্যান: ধ্যান এর মাধ্যমে মানুষ তার মস্তিষ্কের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ফলে ধ্যান স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করার একটি পরীক্ষিত কৌশল। তাছাড়া নিয়মিত ধ্যান মানুষের মস্তিষ্ককেও শীতল রাখে ফলে কোনোকিছু মনে রাখা সহজ হয়ে যায়।

3423 views

Related Questions