খেলতে খেলতে শিখি শেখাইঃ আজকের বিষয় "সালাত বা নামাজ"। কতটা জানেন?
খেলতে খেলতে শিখি শেখাই বিস্ময় ডট কমের নতুন সংযোজন। এ বিভাগে আমরা প্রতিদিন একটি নতুন বিষয় ঠিক করে দেব। এবং বিস্ময় ডট কমের সকল সদস্য সে বিষয়ে নিজে যা জানেন তা উত্তর দেবেন। এতে করেঃ
১। কোন একটি নির্ধারিত বিষয়ে সকল সদস্যের জ্ঞ্যান একত্রিত হবে।
২। সেই বিষয়ের একটি তথ্য ভান্ডার তৈরী হবে।
৩। একে অন্যের সাথে জ্ঞ্যান ভাগ করার সুযোগ তৈরী হবে।
৪। নিজে যা জানি অন্যদের জানাতে পারবো এবং অন্যরা যা জানেন তাও জানতে পারবো।
লক্ষ্যনীয়ঃ
১। এ বিভাগে কোনভাবেই কপিপেস্ট গ্রহনযোগ্য নয়।
২। একজন ব্যাবহারকারী যতগুলো উত্তর ই দিন, একটি প্রশ্নে একটি উত্তরের ই বোনাস পয়েন্ট পাবেন।
আজকের বিষয় সালাত বা নামাজ। পবিত্র ইসলামের মুল স্তম্ভ গুলোর একটা। আর এ বিষয়ে আপনি যা জানেন জানান অন্যদের। সালাতের ফরজ, নফল, সালাত সম্পর্কিত কুরআন এর আয়াত, হাদিস। সালাত সম্পর্কিত ঘটনা, ইত্যাদি। সেই সাথে এ নিয়ে আপনার কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করুন, অন্যরা সাহায্য করবেন।
10 Answers
নামাজ বেহেশতের চাবি। প্রতিটি মুসলিমের উচিত ৫ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। নামাজ কায়েম সম্পর্কে আমাদের পবিত্র কুরআনে অনেক বাণী এসেছে। এখানে সালাত সম্পর্কে কুরআনের কয়েকটি বাণী উল্লেখ করা হলো । ১. আর সালাত কায়েম করো আমাকে স্মরণ করার জন্য । ’ ( সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত - ১৪ ) ২. সালাত কায়েম করো এবং যাকাত দিয়ে দাও। আর যারা রুকু করে তাদের সাথে রুকু করো (অর্থাৎ জামাতে সালাত আদায় করো)। ’ (সূরা ২ আল বাকারা : আয়াত - ৪৩ ) ৩. যে কিতাব তোমার প্রতি অহী করা হয়েছে , তা থেকে তিলাওয়াত করো এবং সালাত কায়েম করো। ’ ( সূরা ২৯ আনকাবূত : আয়াত - ৪৫) ৪. অবশ্যি সালাত বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে । ’ ( সূরা ২৯ আনকাবূত : আয়াত - ৪৫) ৫. তোমার পরিবার পরিজনকে সালাতের আদেশ করো। এবং এর উপর অটল থাকো। ’ ( সূরা ২০তোয়াহা : ১৩২ )
নামাজের কথা শুনতেই প্রথম সেই হাদিসটা মনে পড়ে গেল- কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দাকে আল্লাহর সামনে নামাজের হিসাব দিতে হবে (তিরমিজি)। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর উপর নামাজ ফরজ। নামাজি ব্যক্তির মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে তার নামাজের পরিশুদ্ধতার নিরিখে। তাই সেটা হতে হবে- সঠিক পদ্ধতিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিখানো তরিকায়। তিনি যেভাবে নামাজ পড়েছেন, পড়তে বলে গেছেন, সেভাবে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে। সালাত আল্লাহর নৈকট্য ও উচ্চ-মর্যাদা লাভের উপকরণ। সাওবান (রা:) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে এমন আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউত্তরে বললেন, তুমি বেশি করে আল্লাহর জন্য সেজদা-সালাত আদায় করতে থাক, কারণ তোমার প্রতিটি সেজদার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার গুনাহ মাপ করবেন। (মুসলিম:৭৩৫ ) তিনি-সা. আরো বলেন – أقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد، فأكثروا الدعاء. ( رواه مسلم:744) বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে যখন সে সেজদারত থাকে। সুতরাং তোমরা সেজদার অবস্থায় বেশি বেশি প্রার্থনা কর। (মুসলিম:৭৪৪) ৫– সালাত পাপ মোচনকারী এবং ছোট ছোট গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : – الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة كفارة لما بينهن مالم يغش الكبائر. ( رواه مسلم:344) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমা হতে আরেক জুমা মধ্যবর্তী গুনাহ সমূহের প্রায়শ্চিত্ত করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত না হয়। (মুসলিম:৩৪৪) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামগুনাহ প্রায়শ্চিত্তের একটি দৃষ্টান্ত এভাবে বর্ণনা করেন ; তিনি বলেন – أرأيتم لوأن نهراً بباب أحدكم، يغتسل فيه كل يوم خمس مرات، هل يبقى من درنه شيء ؟ قالوا لا يبقى من درنه شيء، قال فكذلك مثل الصلوات الخمس، يمحو الله بهن الخطايا.) رواه مسلم:497) যদি তোমাদের কারো বাড়ির দরজায় একটি পুকুর থাকে আর তাতে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, তার শরীরে কোন ময়লা আবর্জনা অবশিষ্ট থাকে ? সাহাবিরা উত্তরে বললেন, না। রাসূল সা. বলেন-অনুরূপ ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ; আল্লাহ তাআলা দৈনিক পাঁচবার সালাত আদায় করা দ্বারা গুণাহ-পাপাচারগুলো ধুয়ে মুছে ফেলেন। (মুসলিম:৪৯৭) তিনি আরো একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে বলেন – إن العبد المسلم ليصلي الصلاة يريد بها وجه الله، فتهافت عنه ذنوبه، كما يتهافت هذا الورق عن هذه الشجرة. رواه أحمد:20576) মুসলিম বান্দা যখন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করে তখন তার গুনাহ এমনভাবে ঝরে পড়তে থাকে যেমন এই বৃক্ষের পাতা ঝরে পড়ে। (আহমদ : ২০৫৭৬) শরিয়তের প্রতিটি হুকুম পালনের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে সামনে রাখা- একান্ত অপরিহর্য বিষয়। কেননা, তার জীবনাদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণ ব্যতীত আল্লাহতায়ালার আদেশ ও নিষেধাবলির পালন পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। তার আদর্শ অনুসরণ-অনুকরণ ও তাকে ভালোবাসার মাধ্যমে অর্জিত হয় আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালোবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।’ -সূরা আল ইমরান : ৩১ ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত নামাজের গুরুত্ব কম নয়। কারণ, যথাযথভাবে সঠিক পদ্ধতিতে গুরুত্ব সহকারে সুন্নত নামাজ আদায় করার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুপম আদর্শ অনুসরণ ও তার প্রতি অগাধ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সুন্নত নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়, কিয়ামতের দিন কারো ফরজ নামাজে ঘাটতি থাকলে, এ নামাজ দ্বারা আল্লাহতায়ালা সেই ঘাটতি পূরণ করবেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে ও পরে বারো রাকাত সুন্নত নামাজ রয়েছে। এগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আদায় করতেন এবং সাহাবাদের আদায় করতে বলতেন। তবে কখনো কোনো কারণ ছাড়া তা আদায় করা থেকে বিরত থাকতেন না। অসংখ্য হাদিসে সুন্নত নামাজের ফজিলতের কথা বলা হয়েছে । উম্মে হাবিবা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ও দিনে বারো রাকাত নামাজ আদায় করলো, জান্নাতে তার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করা হলো। (সেগুলো হলো) জোহরের (ফরজ নামাজের) পূর্বে চার রাকাত, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পর দুই রাকাত, ইশার পর দুই রাকাত, ফজর নামাজের পূর্বে দুই রাকাত। – তিরমিজি ফরজ নামাজ শেষে সুন্নত নামাজ আদায় না করে অনেক মুসল্লিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। (যদিও এ নামাজ মসজিদের ভিতরে পড়া আবশ্যক নয়, তথাপি আপাত-দৃষ্টিতে দেখা যায়- মসজিদ থেকে বের হয়ে এসে অলসতাবশতঃ অনেকে এ নামাজ আদায় করতে পারে না বা কর্মব্যস্ততার কারণে সুযোগ হয় না।) বিশেষভাবে এ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় জুমার দিন শুক্রবারে। জুমার দু’রাকাত ফরজ নামাজের আগে ও পরে চার রাকাত করে আট রাকাত সুন্নত নামাজ রয়েছে। নামাজান্তে সুন্নত নামাজ আদায় না করে উঠে আসা; একদিকে যেমন অন্যান্য মুসল্লিদের ইবাদতমগ্নতায় ব্যঘাত ঘটায়, নামাজের বিনম্র্রতা নষ্ট করে। অন্যদিকে নামাজ পড়তে আসা মুসলিম শিশুরাও এ ধারাটি অব্যাহত রাখতে শেখে। বড়দের দেখাদেখি তারাও এভাবে সংক্ষিপ্তভাবে নামাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নামাজসহ ইসলামের প্রতিটি বিধানের ব্যাপারে প্রজ্ঞাবানদের সতর্ক থাকতে হবে। সালাত এমন এক এবাদত যা সারা বছর দৈনিক পাঁচ বার আদায় করতে হয়। মৃত্যু ছাড়া আর কোন অবস্থাতেই সালাত মাফ হয় না এমনকি মৃত্যুশয্যাতেও সালাত হতে বিরত থাকার কোন বিধান নেই। কারো ইবাদতে কোনো ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে, তাকে শুধরে দেওয়া প্রতিটি জ্ঞানবান মুসলমানের পরম দায়িত্ব। অন্যথায় গোটা জীবন ভুল পদ্ধতিতে ইবাদত-বন্দেগি করে আখেরাতে ফলাফল আসবে শূন্য। তাই আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম পালন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণ-অনুকরণ ও ইসলামি সংস্কৃতি চর্চায় সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।
ঈমানের পরই সালাতের স্থান। সালাত বা নামাজ ঈমানের প্রমাণ। সালাত একটি ফারসি শব্দ। সালাত বা নামাজ ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া বা আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানদের আবশ্যক বা ফরজ। পবিত্র কুরআনে বিরাশি বার নামাজ উল্লেখ আছে। সবচেয়ে বড় সুরা বাকারা এবং ছোট সুরা কাউসারেও নামাজ বিষয়ে উল্লেখ আছে। কুরআনে ত্রিশটি পারাতেই সালাত বা নামাজ সম্পর্কে আলোপাত করা হয়েছে। আল্লাহর কোনো নবী বা অলী বেনামাজি ছিলেন না। কুরআনে নামাজকে সালাত বলা হয়েছে। এ ছাড়াও সালাতকে রুকু, সেজদা, ইবাদত, যিকর ইত্যাদি নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সালাত শব্দের অর্থ হচ্ছে নামাজ, দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা, দরুদ, তাসবীহ ইত্যাদি। সালাত বা নামাজ হচ্ছে রুকু, কিয়ামসহ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট নিয়মে ও বিধি মতে কেবল আল্লাহরই উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি ইবাদত। মনে রাখতে হবে সালাত ছাড়া অন্য কোন ইবাদতের জন্য আজান নেই। সকল ইবাদত আল্লাহ পাক জমিনে ফরজ করেছেন কেবল ‘নামাজ মিরাজ রজনীতে আল্লাহর আরশে ফরজ করা হয়’।
নামায শব্দের অর্থ দোয়া। এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা এই নামায। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিবর্তন এর মধ্যে দিয়ে আজকের এই পরিপূর্ণ নামাজ ব্যবস্থা মুসলমান জাতির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। নামাজ মূলত ৫ ওয়াক্ত:>১.ফজর ২.যোহর ৩.আসর ৪.মাগরিব ৫.এশার এছাড়া বাড়তি হিসেবে সপ্তাহ শেষে শুক্রবার থাকে জুম্মাহ যাকে বলে গরীবের হজ্জের দিন। নামজের গুরত্ব :::> একটা বদ্ধ ঘর খুলতে চাবি প্রয়োজন, আর বেহেস্তের চাবি হল নামাজ যা ছাড়া বেহেস্তের দরজা খোলা হয়েছে, কোরানে সবেচেয়ে বেশিবার বলা হয়েছে নামাজ আদায় করতে। হাদিস শরীফে আছে "আসসালাতুল মিফতাউল জান্নাত" অর্থ নামজ বেহেস্তের চাবি। কোরানে বলা হয়েছে "আসসালাতু মেহরাজুল মুমিনিন" অর্থ নামাজ মুমিনের জন্য মেরাজ শরীফ। অর্থাৎ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে মেরাজ লাভ করা সম্ভব। কোরানে আরো বলা হয়েছে "ওয়ারকাউ মা,আর রাকিয়িন" "তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর। একটি নদীতে কোন মানুষ যদি দৈনিক ৫বার গোসল করে তার গায়ে/শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারেনা,সুতরাং ৫বার দৈনিক নামাজ পড়লে তার কোন গুনাহ থাকতে পারেনা। নামাযই সর্বোত্তম ব্যায়াম যার মাধ্যম এ শরীরের সব অংগের ব্যায়াম হয়। অর্থাৎ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। নামাজ না পড়ার শাস্তি: রাসুল (স:) বলেন জামাতের সহিত যে নামাজ পড়ে না,আমার ক্ষমতা থাকলে আমি তার ঘর জ্বালিয়ে দিতাম,যদি সে ঘরে মাছুম বাচ্ছা আর নারী না থাকতো। ১ওয়াক্ত নামাজ না পড়লে কোটি কোটি বছর দোযখের আগুনে জ্বলতে হবে। অনেক শাস্তি আছে যা বলে শেষ করে সম্ভব না। নামাজ সম্পর্ক এ বলে কখনো শেষ করা যাবেনা, আমি নামাজ সম্বন্ধে যা জানি তা আপনাদের জানালাম, এতে যদি আমার সামান্য পরিমাণ ভুলও থাকে ক্ষমা করবেন আমাকে,। আর আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করেন,যদি কোন ভুল তথ্য দিয়ে থাকি, আল্লাহ সবাইকে নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন। (আমিন)
নামাজ হচ্ছে একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রথম এবং প্রধান মাধ্যম। নামাজ হচ্ছে ইসলামের পাঁচটি স্তম্বের মধ্যে ২য়। এটি প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ। যা পালন করা আবশ্যক। নামাজ সর্ম্পকে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল হলো ওয়াক্তমত নামাজ আদায় করা"। মুসলিমদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার বিধান রয়েছে। ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা।
নামাজ হচ্ছে ইসলামের মূল সোপান।নামাজ ছাড়া কোন মুসলিম হতে পারে না।নামাজ নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে পবিত্র আল-কোরাআনে।যা আমরা পড়লে জানতে পারবো।নামাজ হচ্ছে আত্বউন্নয়নের প্রতীক।নামাজ আমাদের অনেক গুনে গুনান্বিত করে যা আমরা বলে শেষ করতে পারবো না।সঠিক নিয়মে যে নামাজ পড়ে তার দ্বারা কোন খারাপ কাজ হতে পারে না।তাই আমাদের সবাইকে নামাজ পড়া উচিত।নামাজের দাওয়াত দেওয়া উচিত।
সত্যিই বলতে যখন নামাজ পড়ি তখন মনে অনেক শান্তি আসে, সকল দরনের চিন্তা মাথা থেকে দূর হয়, নামাজ পরতে যখন মসজিদে যাই তখন মন টাই অন্য রকম হয়ে যায়, আর আমি মনে করি নিশ্চই যে ব্যক্তি সব সময় পাচঁ ত্তয়াক্ত নামাজ পরবে সে কখনো জাহান্নামে যেতে পারে না....
নামাজ শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে, এর আরবী হচ্ছে "সালাত" রাসূল সাঃ এর মেরাজ গমনের মাধ্যমেই মুসলমানদের উপর নামাজ ফরজ হয়| নামাজ আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ| পিতা-মাতার জন্য আল্লাহ নামায সম্পর্কে বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে ৮ বছর বয়স হতে নামাজের তাগিদ দাও ১০ বছর বয়স হতে তাকে নামাজের জন্য বাধ্য করো| এবং ১২ বছর বয়সে তোমরা তাকে নামাজের জন্য প্রহার করো| পরকালের পরম চাওয়া জান্নাতুল ফেরদাউস পেতে হলে অবশ্যই আমাদের ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে|
নামায শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে উদ্ভূত, যা আরবি ভাষায় সালাত । ফার্সি, উর্দু, হিন্দি, তুর্কী এবং বাংলা ভাষায় একে নামায বলা হয়। সালাত -এর আভিধানিক অর্থ হল দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা ইত্যাদি।পারিভাষিক অর্থ: ‘শরী‘আত নির্দেশিত ক্রিয়া-পদ্ধতির মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে বান্দার ক্ষমা ভিক্ষা ও প্রার্থনা। নামাজ বা সালাত হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।এবং প্রবিত্র কোরআনে আল্লাহতালা ১বার নয় ২ বার নয় ৩ বার নয় ৮২ বার বলেছেন সালাত কায়েম করার জন্য। নামাজের শুরুর ইতিহাস ইসলামের বিভিন্ন বর্ননা অনুযায়ী মুহাম্মাদ সাঃ আরবি ৬১০সালে ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন এবং অব্যবহিত পরে সূরা মু’মিন-এর ৫৫ নম্বর আয়াত স্রষ্টার পক্ষ থেকে সকাল ও সন্ধ্যায় দৈনিক দুই ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ (আবশ্যিক) হওয়ার নির্দেশনা লাভ করেন। তিনি ৬১৪ সালে সকাল, সন্ধ্যা ও দুপুরে দৈনিক তিন ওয়াক্ত নামাজের আদেশ লাভ করেন। ৬১৯ সালে ২৭শে রজব তারিখে মিরাজের সময় পাঁচওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। উল্লেখ্য যে, এ সময় জোহর, আসর ও এশা ২ রাকায়াত পড়ার বিধান ছিল। ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহর তরফ থেকে ২ রাকায়াত বিশিষ্ট জোহর, আসর ও এশাকে ৪ রাকায়াতে উন্নীত করার আদেশ দেয়া হয়।
সালাত বা নামায সর্ম্পকে আমি যা জানি::=> ১)এটা আল্লাহ’তালার হুকুম অর্থাৎ এটা ফরয বা আবশ্যক.. ২)দৈনিক পাঁচবার সালাত আদায় করা ফরয., ৩)দৈনিক ১৭ রাকায়াত ফরয নামায আছে.. ৪)ফরজের পাশাপাশি ২০ রাকায়াত সুন্নত ও ৩ রাকায়াত বেতের পড়া হয়.. ৫)ওয়াক্ত গুলো হল ফজর,যুহুর,আছর,মাগরিব,ঈশা.. ৬)একা পড়ার চেয়ে জামাতে আদায় করলে ২৭ গুন বেশী শোয়াব.. ৭)সময় মত সালাত আদায় করলে আল্লাহ তাকে পাঁচটি পুরষ্কার দিবে.. সালাত সম্পর্কে অনেক হাদিস আছে... ১)নবী(সা:)বলেছেন যে সালাত আদায় করে,পরকালে এ সালাত তার জন্য নুর হবে(তাবারানি)