আমার চুলকে নিয়ে খুব টেনশনে আছি, প্লিজ হেল্প!!?
3 Answers
ঘরে বসে খুব সহজেই আপনার স্ট্রেইট চুলের স্বপ্ন পুরনের কিছু উপায়ঃ দুধের ব্যবহারঃ এই পদ্ধতিতে চুল স্ট্রেইট করার জন্য আপনার লাগবে মাত্র ১/৩ কাপ দুধ, ১/৩ কাপ পানি ও একটি স্প্রে বোতল। চুল যদি বেশি কোঁকড়া হয় তবে মিশ্রনে ২ টেবিল চামচ মধু দিয়ে নিন। প্রথমে একটি পাত্রে দুধ ও পানি ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর তা একটি স্প্রে বোতলে ঢোকান। চুলের জট একটি বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে ছাড়িয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি স্প্রে করুন পুরো চুলে। সব দিকে ভালো করে স্প্রে করে নিন। মাঝে মাঝে চুল আঁচড়ে নিন বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে। ১ ঘণ্টা এভাবে রাখুন। তারপর চুল ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে। কন্ডিশনার লাগাবেন অবশ্যই। চুল শুকিয়ে গেলে স্ট্রেইট হয়ে যাবে। এভাবে সোজা করলে চুলে পরবর্তীতে পানি লাগানোর আগ পর্যন্ত চুল সোজা থাকবে। নারকেল এবং লেবুঃ তাজা নারকেল মিশ্রিত দুধের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর এই মিশ্রণটিকে কয়েক ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। একটি ঘন ক্রিমি (creamy)লেয়ার বা স্তর দেখা যাবে পাত্রের উপরে। এই লেয়ারটাই দরকার চুল সোজা করার জন্য। পুরো চুলে এটি লাগিয়ে নিন এমনকি মাথার তালু বা ত্বকেও লাগাবেন। ১৫-২০ মিনিট ধরে চুলে স্টিম করুন। সব শেষে ধুয়ে ফেলুন সমস্ত চুল। এভাবে নিয়মিত করতে থাকলে আপনি ধীরে ধীরে দেখবেন আপনার চুল সোজা হতে শুরু করেছে। ক্যাস্টর অয়েলঃ ক্যাস্টর অয়েলে আছে চুলকে বৃদ্ধি আর চুল সোজা করার গুনাগুণ। এই তেল চুলের ভেতরে মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন, তারপর চিরুনি দিয়ে চুল বরাবর আঁচড়াতে থাকুন। যখন চুল আঁচড়াবেন তখন ব্লো ড্রাই করুন হাই হিটে। ব্লো ড্রাই করার পর চুলে যেন তেলতেলে ভাব না থাকে, চুল হতে হবে শুষ্ক। তারপর একটি ভেজা তোয়ালে দিয়ে চুল জড়িয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা ধরে। এটা চুলকে অতিরিক্ত হিট থেকে রক্ষা করবে আর স্ট্রেইটনেস বা সোজা ভাবটি বজায় থাকবে।
চলুন শিখে নিই চুল সোজা করার জেল তৈরির পদ্ধতি যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি। এই জেলটি চুলে নিয়মিত ব্যবহার করলে সৌন্দর্য না হারিয়েই চুল থাকবে একদম সোজা।
যা যা লাগবে_
১ কাপ নারকেলের দুধ
১টি লেবুর রস
২ টেবিলচামচ অলিভ অয়েল
৩ টেবিলচামচ কর্ণ স্টার্চ
যেভাবে জেল তৈরি করবেন_
– প্রথমে লেবুর রসের সাথে কর্ণ স্টার্চ পাউডার ভাল করে মেশান। কর্ণ স্টার্চ পাউডার বার বার দিয়ে লেবুর রসের সাথে মেশাতে থাকুন।
– এবার একটি পাত্রে নারকেলের দুধের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন।
– তারপর লেবুর রস এবং কর্ণ স্টার্চ পাউডারের মিশ্রণটি ঢেলে দিন। মাঝারি আঁচে চুলায় মিশ্রণটি জ্বাল দিন।
– জ্বাল দেওয়ার সময় মিশ্রণটি বার বার নাড়তে থাকুন।
– ঘন জেলের মত হয়ে এলে চুলা থেকে মিশ্রণটি নামিয়ে ফেলুন।
– এবার একটি প্লাষ্টিকের বা কাঁচের বয়ামে জেলটি ঢেলে ফেলুন।
– ঠাণ্ডা হবার পর চুলে এটি ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহারে এটি আপনার চুলকে করবে একদম সোজা বা স্ট্রেইট করে দেবে যেমনটি আপনি চান। এই মিশ্রণ চুলে মেখে নিন ভালো করে। তারপর একটি গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে চুল পেঁচিয়ে রাখুন। ২ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। আর দেখুন ম্যাজিক!
চুল সোজা নয় বলে অনেকেই আফসোস করেন। চুল সোজা করতে আয়রন বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করতে দেখা যায়। কিন্তু এটা একেবাবেই ঠিক নয়। এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ আপনার চুলের ভাঙা, চুল পড়া এবং চুলকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। তাই চুল সোজা করতে প্রাকৃতিক উপায় বেছে নিতে পারেন। প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করতে আপনার পছন্দের যেকোন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। পদ্ধতি- ১. অলিভ অয়েলের সাথে দুটি ডিম মিশিয়ে চুলে মাখুন। হালকা আবরণ দিয়ে চুল ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন অতঃপর ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। কেননা অলিভ অয়েলে আছে হাইড্রক্সিটিরোসল এবং ভিটামিন ই। আর ডিমে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল এবং ফ্যাটি এসিড। পদ্ধতি-২. এই পদ্ধতি ব্যাবহারের জন্য লাগবে ১ কাপ মুলতানি মাটি, ১ টি ডিম, ৫ চা চামচ চালের গুঁড়ো। প্রথমে একটি পাত্রে ডিমটি খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন। এরপর এতে মুলতানি মাটি ও চালের গুড়ো দিয়ে ভালো মত মিশিয়ে একটি পেস্টের মত তৈরি করুন। চুলের জট ছাড়িয়ে নিন। এরপর চুল আঁচড়ে পেস্টটি চুলে লাগিয়ে নিন। যতটা সম্ভব চুল সোজা রাখার চেষ্টা করুন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। প্রতি ৪ দিনে ১ বার করে এই পেস্টটি চুলে লাগান। পদ্ধতি-৩. এই পদ্ধতিতে চুল সোজা করার জন্য দুধ, পানি ও একটি স্প্রে বোতল লাগবে।চুল যদি বেশি কোঁকড়া হয় তবে মিশ্রনে ২ টেবিল চামচ মধু দিয়ে নিন। প্রথমে দুধ ও পানি ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর তা একটি স্প্রে বোতলে ঢোকান। চুলের জট ছাড়িয়ে এই মিশ্রণটি স্প্রে করুন পুরো চুলে। ঘণ্টাখানেক রেখে ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে। পদ্ধতি-৪. বিশুদ্ধ নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লেবুর রসে আছে চুল পরিষ্কার করার ও সোজা রাখার শক্তি, যা চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। পদ্ধতি-৫. তেল গরম করে চুলে প্রয়োগ করুন। গরম পানিতে একটি টাওয়েল ডুবিয়ে পানি নিংড়ে নিন এবং পাগড়ির মতো করে মাথায় বেঁধে রাখুন। এভাবে তিন থেকে চারবার টাওয়েল ভিজিয়ে পাঁচ মিনিট করে রাখুন। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চিরুনি করুন। সপ্তাহে দুবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।