3 Answers

আমাদের দেশের সাধারণ মুসলিমদের বিশ্বাস হলো – যেহেতু আমি কালেমা পড়েছি, নামের আগে মুহাম্মাদ আছে, শুক্রবারে জুমু’আর নামাজ পড়ি, ঈদ পালন করি, মানুষের সাথে দেখা হলে সালাম দেই, মাঝে মধ্যেই ইন শা আল্লাহ্, মাশআল্লাহ্ বলি, কাজেই আমি অবশ্যই মুসলিম। এখন জীবনে ভাল- মন্দ যাই করি না কেন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি আর না পড়ি, একদিন না একদিন তো বেহেশতে যাবই। কিন্তু, প্রকৃত সত্য হলো – শুধু কালেমা পড়লে বা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেই মুসলিম হওয়া যায় না। মুসলিম হতে হলে লাগে ৭টি বিষয়ের উপর ঈমান আনা (অন্তর্গত অবস্থা) এবং ইসলামের ৫টি স্তম্ভের উপর আমল করা (বাহ্যিক কাজ) (সূত্র: সহীহ বুখারী ও মুসলিম এ বর্ণিত জিব্রাইল(আ) এর হাদিস) । বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম মুহাম্মাদ ইবনে আল উসাইমিন(রহ) এর মতামত হলো – যে ব্যক্তি ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নিয়মিত আদায় না করবে সে মুসলিম থাকবে না, কাফের হয়ে যাবে। তাদের পর এল অপদার্থ উত্তরসূরীরা, তারা নামাজ নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুগামী হল, তাই তারা অচিরেই মন্দ পরিণাম প্রত্যক্ষ করবে। কিন্তু, তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে এবং ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তারাই তো জান্নাতে প্রবেশ করবে – তাদের প্রতি সামান্য জুলুমও করা হবে না। (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৯-৬০)। লক্ষ্য করুন, ৫৯ নং আয়াতে নামাজ ত্যাগকারীদের অপদার্থ বলা হয়েছে। আর তারা কিভাবে আবার সুপথগামী হতে পারবে তার বর্ণনা করতে যেয়ে ৬০ নং আয়াতে তাদেরকে তওবা করে আবার ঈমান আনতে বলা হয়েছে। এটা প্রমাণ করে যে, নামাজ ত্যাগকারী অবস্থায় তাদের ঈমান চলে গিয়েছিল, অর্থাৎ তারা অমুসলিম হয়ে গিয়েছিল। তাই বলা যেতে পারে ঈমান না থাকলে সে মুসলমান না আর সে কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না তবে যদি তওবা করে নামাজ পড়ে ও সৎকর্ম করে তাহলে আশা করা যায়।

3630 views

ইসলামের বহু ফরজ কাজের মধ্যে নামাজ ও রোযা অন্যতম। এগুলো অবশ্য পালনীয় ইবাদত।হাদীছে আছে,'যে ব্যক্তি সালাত পরিত্যাগ করল সে কুফরী করল'।তাই সালাত ত্যাগকারী কুফরী করার শামিল।আর কাফিরদের জন্য পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি।সুতরাং বলা যায় সালাত ও রোযা ত্যাগ করে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়।কিন্তু আল্লাহ তায়ালা হলেন পরম করুনাময়,অসীম দয়ালু তিনি চাইলে যে কাওকে ক্ষমা করতে পারেন।

3630 views

হাদিস শরীফে এসেছে:"من قال لا اله الا الله دخل الجنه " অর্থাং যে কলিমা পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।এর দ্বারা বুঝা যায় যে কালিমা পড়লে জান্নাতে যাওয়া যাবে,তবে আকিদা পুরোপুরি ঠিক রাখতে হবে, অন্তরে শিরকি রাখা যাবে না। নামায হল আল্লাহর হক, তিনি চাইলে তা মাফ করে দিবেন,আর চাইলে শাস্তি দিবেন। তবে নামায না পড়ার কারনে তাকে অনেক শাস্তি ভোগ করতে হবে, এক এক ওয়াক্ত নামাযের জন্য কোটি কোটি বছর জাহান্নামে থাকতে হবে। সব গুনাহের জন্য শাস্তি ভোগ করার পর সে জান্নাতে যাবে ঈমান থাকার কারনে। আর হাদিসে যে বলা হয়েছে নামায যে না পড়বে সে কাফির হয়ে যাবে। এখানে কাফেরের সাথে তুলনা করা হয়েছে, কাফিরও নামায পড়ে না সেও পড়েনি এই দিক দিয়ে তারা দুজন একই। কফেরের শাব্দিক অর্থ গোপন করা,কৃষককেও কাফের বলা হয় যেহেতু সে বীজ মাটির নীচে গোপন করে।কাফের কে কাফের এ কারনে বলা হয় যে সে আল্লাহর নেয়ামতকে গোপন করে। আরেকটি উদ্দেশ্য হলো যে নামায না পড়বে অর্থার যে নামায অস্বীকার করবে, তাহলে সে আসলেই কাফের হয় যাবে। আরবি ভাষায় পূর্ন দক্ষতা না থাকলে আরো অনেক বিষয়ে এলেম না থাকলে আমরা সরাসরি হাদিস দেখব না, কেননা আরবি ভাষার এক শব্দের অর্থ হতে পারে, এখানে কি অর্থ উদ্দেশ্য তা তো বুঝা যাবে না, কোন অর্থ নিলে অন্যান্য হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না তা জানতে হবে। এবং রাসুল হাদিসটি কোন অব্থায় বলেছেন তাও যানতে হবে।

3630 views

Related Questions